রিলায়েন্সের শেয়ারের বড় উত্থান, এশিয়ার শীর্ষ ধনী এখন মুকেশ আম্বানি

মুকেশ আম্বানি— রয়টার্স
রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম সোমবার প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় এশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যক্তির অবস্থান ফিরে পেয়েছেন মুকেশ আম্বানি। ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নিয়ার তালিকায় মিলেছে এমন তথ্য। এতে বাইটড্যান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইমিংকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। ২০২০ সালের এপ্রিলের পর এক দিনে রিলায়েন্সের শেয়ারের এটাই সবচেয়ে বড় উত্থান।
ফোর্বসের হিসাবে, আম্বানির সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৮০ কোটি ডলারে। এক দিনেই তার সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৮৫০ কোটি ডলার। অন্যদিকে ঝাং ইমিংয়ের সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। এশীয় ধনীদের মধ্যে এরপর রয়েছেন গৌতম আদানি। ৮ হাজার ১০ কোটি ডলারের সম্পদ নিয়ে বিশ্বে তার অবস্থান ২৬তম। তবে বিভিন্ন তালিকায় ধনীদের অবস্থান একরকম নয়। ব্লুমবার্গের হিসাবভিত্তিক তথ্যে গত সেপ্টেম্বরে ঝাংয়ের সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। সে সময় ফরচুন জানিয়েছিল, এশিয়ার শীর্ষ ধনী হিসেবে আদানিকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। ফলে কোন সূচক ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করছে এশিয়ার শীর্ষ ধনীর পরিচয়।
৩০ অক্টোবর প্রকাশিত রিলায়েন্সের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলের পরই শেয়ারের এই উত্থান ঘটে। আগের বছরের একই সময়ের ১৮ হাজার ১৬৫ কোটি রুপি থেকে প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত নিট মুনাফা ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৫ হাজার ৫৪৮ কোটি রুপি। এই মুনাফা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিজনেস টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ারের দাম বাড়ায় রিলায়েন্সের বাজারমূল্য ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের বেশি বেড়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ লাখ ৬০ হাজার কোটি রুপিতে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহে সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে পরিশোধন মুনাফা ঐতিহাসিকভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি থাকাও এই উত্থানে ভূমিকা রেখেছে।
জিও প্ল্যাটফর্মস শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এটিই ছিল রিলায়েন্সের প্রথম প্রকাশিত প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন। রিলায়েন্সের ৬৪ দশমিক ৫ শতাংশ মালিকানাধীন ডিজিটাল ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান জিও গত ২৮ অক্টোবর শেয়ারবাজারে যাত্রা শুরু করে। এর আগে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩০ হাজার ১৮৮ কোটি রুপি সংগ্রহ করে, যা ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আইপিও। আম্বানি জানিয়েছিলেন, আইপিওতে নির্ধারিত শেয়ারের তুলনায় ২২ গুণেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। বিজনেস টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দিনেই জিওর শেয়ারের দাম ২৭ শতাংশ বেড়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত প্রান্তিক আয় ১১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪৭ হাজার ৪৮৫ কোটি রুপি। মুনাফা বেড়েছে ১৪ শতাংশ। আম্বানি এই তালিকাভুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, জিও ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের নিয়ন্ত্রণ আম্বানি পরিবারের হাতে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মুকেশ আম্বানির বাবা ধীরুভাই আম্বানি। এ বছর ফোর্বসের গ্লোবাল ২০০০ তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ ৬০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জায়গা পেয়েছে রিলায়েন্স। প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত বিক্রির পরিমাণ ১১ হাজার ৯৭০ কোটি ডলার, সম্পদের পরিমাণ ২২ হাজার ৯৬০ কোটি ডলার এবং মুনাফা ৯১০ কোটি ডলার।
আম্বানি ও ঝাংয়ের সম্পদের ব্যবধান খুব বেশি নয়। যেকোনো দিন শেয়ারবাজারের লেনদেনে এই অবস্থান বদলে যেতে পারে। ফোর্বসের হিসাবে, দুজনের সম্পদের ব্যবধান প্রায় ৪৮০ কোটি ডলার। অন্যদিকে ঝাংয়ের সম্পদের হিসাব করা হয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের আনুমানিক বাজারমূল্যের ভিত্তিতে। ফলে এই র্যাংকিং নির্ভর করছে রিলায়েন্সের শেয়ারের দামের পাশাপাশি বাইটড্যান্সের মূল্যায়নের ওপরও।



