ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবেন অস্ট্রেলীয়-বাংলাদেশি শিল্পপতি, মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ

সংগৃহীত ছবি
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের চাহিদাকে কাজে লাগাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টার প্রকল্পে ৩০ বিলিয়ন ডলার (৩ লাখ কোটি রুপি) বিনিয়োগ করবেন অস্ট্রেলীয়-বাংলাদেশি শিল্পপতি রবিন খুদা।
বিনিয়োগের লক্ষ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকও করেছেন রবিন। বৈঠকের পরেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রবিনের প্রতিষ্ঠিত ডেটা সেন্টার এয়ারট্রাঙ্ক'র নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন বেসরকারি ইক্যুইটি সংস্থা ব্ল্যাকস্টোন।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এয়ারট্রাঙ্ক ভারতজুড়ে প্রায় পাঁচ গিগাওয়াট ডেটা সেন্টার সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা করেছে। এই বিনিয়োগের প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, এই ধরনের উদ্যোগ ক্লাউড কম্পিউটিং এবং এআইয়ের বৈশ্বিক হাব হিসেবে ভারতের অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে আরও।
সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি তৈরি হবে পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য মহারাষ্ট্রে। চলতি সপ্তাহেই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ এক্সে জানান, এয়ারট্রাঙ্ক তার রাজ্যে তিন গিগাওয়াটের একটি ডেটা সেন্টার হাব তৈরি করবে। মুম্বইয়ের কাছে রায়গড়ে এই প্রকল্পের জন্য জমি কিনতে ইতিমধ্যেই লেটার অভ ইনটেন্টে সই করেছে সিডনিভিত্তিক সংস্থাটি।
ই-মেইলের মাধ্যমে ফোর্বস এশিয়াকে এয়ারট্রাঙ্কের সিইও রবিন খুদা জানালেন, আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার মাত্রার সঙ্গে ভবিষ্যতের চাহিদার মাত্রা মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যে অল্প কয়েকটি বাজারে, ভারত তাদের অন্যতম। প্রতিটি বাজারেরই নিজস্ব শক্তি আছে, কিন্তু ভারতের প্রবৃদ্ধির গতিপথ অনন্য। বিপুল জনসংখ্যা, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ও এআই নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষার এই সমন্বয় অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন।
'লুমিনার মাধ্যমে এই বাজারে ঢোকার আগে থেকেই আমরা ভারত সম্পর্কে যথেষ্ট আশাবাদী ছিলাম। চলতি সপ্তাহে সরকারের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর আমরা সেই প্রতিশ্রুতি আরও দ্বিগুণ করতে চাইছি। আমরা স্পষ্ট বার্তা পেয়েছি ভারত বিনিয়োগের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। আগামী প্রজন্মের এআই ও ক্লাউড অবকাঠামোর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করতেও তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই অবকাঠামো আগামী কয়েক প্রজন্ম ধরে ভারতের শিল্প ও অর্থনীতিকে বদলে দেবে, যোগ করলেন তিনি।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমশ নিজেদের উপস্থিতি শক্তিশালী করছে এয়ারট্রাঙ্ক। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, হংকং, ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে তাদের কাজ চলমান।
ফোর্বসের রিয়েল-টাইম ডেটা অনুযায়ী, এই মুহূর্তে রবিন খুদার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এই ব্যবসায়ী বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ধনীতম ব্যক্তিদের অন্যতম। ২০১৫ সালে এয়ারট্রাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন রবিন। তার হাত ধরেই এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটির শক্তিশালী উপস্থিতি তৈরি হয়েছে।




