মণিপুরে এখনও ঘরছাড়া ২৮৮৯৯, বাড়ি ফিরেছেন ৩১ হাজারের বেশি

মণিপুরে দীর্ঘ সংঘর্ষের পর ধীরে ধীরে ঘরে ফিরছেন বাস্তুচ্যুত মানুষজন। সরকারি হিসাব বলছে, এখনও পর্যন্ত ৩১,৮২৩ জন নিজেদের বাড়িতে ফিরেছেন। তবে ২৮,৮৯৯ জন এখনও ঘরছাড়া। তাদের মধ্যে ২৪,৫৩০ জন রয়েছেন ১০৫টি ত্রাণশিবিরে। আরও ৪,৩৬৯ জন কোনও না কোনও অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
২০২৩ সালের মে মাসে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এক সময়ে মণিপুরে ঘরছাড়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজারে পৌঁছেছিল। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে বাড়ি ফিরেছেন। তাদের ফেরানোর পাশাপাশি নতুন করে ঘর তৈরি এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি মেরামতের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকার।
রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মোট ১,৩৪৭.৭৮ কোটি টাকার প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ৯৪৯.৬৩ কোটি টাকা ইতিমধ্যে ছাড়া হয়েছে এবং সেই অর্থ পুনর্বাসনের বিভিন্ন কাজে খরচ করা হয়েছে।
এখনও সবচেয়ে বেশি মানুষ রয়েছেন বিষ্ণুপুরের ত্রাণশিবিরগুলিতে। জেলার ৪১টি শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ৭,৮৯২ জন। চূড়াচাঁদপুরে ১৯টি শিবিরে রয়েছেন ৫,১৯৫ জন। ইম্ফল পশ্চিমে ১৩টি শিবিরে রয়েছেন আরও ৪,৩৯৫ জন।
কাংপোকপিতেও বহু মানুষ এখনও শিবিরে রয়েছেন। সেখানে ১২টি ত্রাণশিবিরে ৩,৩৮৯ জনের পাশাপাশি আরও ২,৫০৬ জন অস্থায়ী আশ্রয়ে রয়েছেন। তেংনোপালে বর্তমানে কোনও ত্রাণশিবির চালু নেই। তবে সেখানে অস্থায়ী ভাবে রয়েছেন ১,২৯০ জন।
ঘরে ফেরা পরিবারগুলির জন্য বাড়ি তৈরির কাজও এগোচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৭,০৩৪টি নতুন বাড়ি তৈরি হয়েছে। সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত ৪,১৫৯টি বাড়ি মেরামত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ এবং কেন্দ্রীয় সহায়তায় ৬,২৮৮টি বাড়ি তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকারের স্থায়ী আবাসন প্রকল্পে তৈরি হয়েছে আরও ৭৪৬টি বাড়ি।
পুনর্বাসনের পাশাপাশি সংঘর্ষের সময়ের ঘটনাগুলির তদন্তও চলছে। স্বরাষ্ট্র দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত সংঘর্ষ-সংক্রান্ত ২,৬৩৮টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তদন্তে ১,৪৬৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৮১টি মামলায় চার্জশিটও জমা পড়েছে।



