অভিজিৎ দীপকের মন্তব্য ঘিরে আলোচনা
আমি যদি মুসলিম হতাম, এতদিনে জেলে থাকতাম

অভিজিৎ দীপকের মন্তব্য নিয়ে চলছে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে চলছে আন্দোলন। এ সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা।
দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি যদি খালিদ হতাম, বা মুসলিম হতাম, তাহলে এতদিনে জেলে থাকতাম। সেটা আমি জানি।’
মঙ্গলবার দেওয়া এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জন্ম দিয়েছে ব্যাপক আলোচনার। তার মন্তব্যের সঙ্গে গবেষক ও সমাজকর্মী উমর খালিদের দীর্ঘ কারাবাসের প্রসঙ্গ টেনে আনছেন অনেকেই।
গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন করছে সিজেপি। তাদের প্রধান দাবি, বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় অনিয়মের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে রয়েছেন তিনি। এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও।
আন্দোলনের বিষয়ে অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, নিটসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে যেসব শিক্ষার্থীর মৃত্যু বা আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে, তাদের পরিবারের পাশে সরকার দাঁড়ায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দীপ মেঘওয়াল, আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদী, আমায়রা কুমার এবং কাহান পটেলের নাম উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এখনও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে তাদের পরিবার। তার অভিযোগ, সরকারের কোনো প্রতিনিধি তাদের পরিবারের কাছে গিয়ে শোকও প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কিন্তু অন্তত পরিবারের কাছে গিয়ে সমবেদনা জানানো এবং ক্ষমা চাওয়া কি খুব বেশি কিছু?’
উল্লেখ্য, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক গবেষক ও সমাজকর্মী উমর খালিদকে ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে এবং আরও কয়েকটি ধারায় মামলা করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দাঙ্গার পরিকল্পনায় তার ভূমিকা ছিল। তবে শুরু থেকেই উমর খালিদ সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। মামলাটি এখনও বিচারাধীন। গ্রেপ্তারের পর একাধিকবার জামিনের আবেদন করলেও বিভিন্ন আদালত তা খারিজ করেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও ভারতের সর্বোচ্চ আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করেন। ফলে বিচার শুরু হওয়ার আগেই প্রায় ছয় বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন তিনি।




