বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে সুফল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দীর্ঘদিনের মন্দা ও আস্থার সংকটে থাকা দেশের শেয়ারবাজারকে গতিশীল করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে একগুচ্ছ কর-প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। অর্থ বিল পাসের মাধ্যমে আজ বুধবার থেকেই এসব সুবিধা কার্যকর হচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগটি শেয়ারবাজারবান্ধব হলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু কর-সুবিধা দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়। এর সুফল নির্ভর করছে বাস্তবায়ন সক্ষমতা, নীতিসহায়তা ও সামগ্রিক পরিবেশের ওপর। এক্ষেত্রে প্রয়োজন সব নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বিত কাঠামোগত সংস্কার ও পদক্ষেপ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারের জন্য কিছু ইতিবাচক প্রণোদনা রাখা হয়েছে, যা স্বল্প মেয়াদে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং সামগ্রিক নীতিগত পরিবেশের ওপর। শুধু কর-সুবিধা বা প্রণোদনা যথেষ্ট নয়। মো. আল-আমিন মনে করেন, বাজারে মানসম্পন্ন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়াতে হবে, বন্ড মার্কেটকে কার্যকর করতে হবে এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে শক্তিশালী করতে হবে। দেশের মিউচুয়াল ফান্ড শিল্প ও বন্ড মার্কেট প্রত্যাশিতভাবে বিকশিত হয়নি। ফলে এসব খাতে দেওয়া প্রণোদনার তাৎক্ষণিক সুফল সীমিত হতে পারে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বিনিয়োগ প্রবেশ ও প্রস্থান প্রক্রিয়া সহজ করা, নীতিগত প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। এক্ষেত্রে সরকারসহ সব নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সরকার পরিবর্তন থেকে শুরু করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নানা উদ্যোগ প্রতিবারই বাজার ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি করে। তবে সেই কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি। এমন বাস্তবতায় গত সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ বিলের সংশোধনী উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের দাবি এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এসব সংশোধনী আনা হয়েছে।
নতুন অর্থবছরের বাজেটে জিরো-কুপন বন্ড থেকে অর্জিত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখা হয়েছে। কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে করহার ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমবে। আবার আইপিও, ডাইরেক্ট লিস্টিং, রাইট শেয়ার বা রিপিট পাবলিক অফারের মাধ্যমে কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়লে অতিরিক্ত ২ দশমিক ৫ শতাংশ কর ছাড় পাবে কোম্পানিগুলো। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত বা অ-তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি সব ধরনের লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে সম্পন্ন করলে আরও ২ দশমিক ৫ শতাংশ কর সুবিধা পাবে। এ ছাড়া ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর করহার ২০ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে কোম্পানি করদাতাদের জন্য অন্য কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে।
ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেছেন, এখন পর্যন্ত শেয়ারবাজার নিয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে কমিশনের পরিবর্তনসহ বাজেটে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা যায়।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য একটি শক্তিশালী শেয়ারবাজার গড়ে তোলা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে কর-প্রণোদনা, বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ, তালিকাভুক্তি উৎসাহিত করা এবং বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণের উদ্যোগ।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেছেন, বাজেট প্রস্তাবের পর শেয়ারবাজারের স্বার্থে বিএসইসি সরকার এবং এনবিআরের কাছে কয়েকটি প্রণোদনার দাবি জানিয়েছিল। সেই দাবিগুলোর বেশ কয়েকটি অর্থ বিলের সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, সরকার ঘোষিত নতুন কর-সুবিধাগুলো শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।




