রান্নাঘরের সুপারফুড
- আমাদের রান্নাঘরে অতিপরিচিত তিন মসলা আদা, হলুদ ও রসুন সুপারফুড হিসেবেও পরিচিত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হলুদ
হাজার বছর ধরে এশীয় অঞ্চলে হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায়। হলুদের প্রধান গুণ লুকিয়ে আছে কারকিউমিন নামক উপাদানে। এটি হলুদকে তার উজ্জ্বল রঙ দেয় এবং প্রদাহরোধী ক্ষমতা জোগায়। আমাদের শরীরে যখন দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি হয়, তখন তা হৃদরোগ, ক্যানসার কিংবা আলঝেইমারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। কারকিউমিন শরীরে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। শরীরের ভেতরের ছোটখাটো ক্ষত বা প্রদাহ দূর করতে হলুদ দারুণ কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হলুদ সেবন করলে জয়েন্টের ব্যথা বা আর্থ্রাইটিসের কষ্ট অনেকটাই কমে যায়। এ ছাড়া হলুদ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং বিষণ্ণতা দূর করতে সাহায্য করে।
হজম ও রোগ প্রতিরোধে আদা
চায়ের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি আদা শরীরের জন্য এক চমৎকার প্রাকৃতিক ওষুধ। যারা মোশন সিকনেস বা ভ্রমণের সময় বমি ভাব অনুভব করেন, তাদের জন্য আদা কুচি বা আদা চা অত্যন্ত কার্যকর। আদার ভেতরে জিঞ্জেরল নামক একটি উপাদান থাকে, যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। এটি শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়, সাহায্য করে। যারা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভুগছেন, তাদের জন্য আদা প্রাকৃতিক ব্যথানাশক, শীতকালে গলাব্যথা বা সর্দি-কাশিতে আদা দিয়ে তৈরি গরম পানীয় ফুসফুসকে সচল রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জাদুর মতো কাজ করে।
হৃদযন্ত্রের বন্ধু রসুন
প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক রসুনের সবচেয়ে বিশেষ দিক হলো এর সালফারযুক্ত উপাদান, যা অ্যালিসিন নামে পরিচিত। রসুন কাঁচা খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ, কাঁচা রসুনেই অ্যালিসিন সবচেয়ে সক্রিয় থাকে। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমায়। নিয়মিত রসুন সেবন করলে রক্তনালিগুলো শিথিল থাকে এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কীভাবে প্রতিদিনের খাবারে যোগ করবেন
সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে সামান্য মধু, আদা কুচি ও লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন। রান্নায় গুঁড়া হলুদের বদলে কাঁচা হলুদের ব্যবহার স্বাস্থ্যসম্মত। রসুন ছোট ছোট টুকরো করে বা থেঁতো করে খাবারের শেষের দিকে যোগ করলে এর পুষ্টিগুণ অটুট থাকে।




