প্রি-ডায়াবেটিস: সচেতন হলেই প্রতিরোধ সম্ভব

মডেল: সুরাইয়া নিতু, যোগব্যায়াম ও জুম্বা ট্রেইনার ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
প্রি-ডায়াবেটিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে; কিন্তু ডায়াবেটিস হিসেবে নির্ণয় হয় না। লিখেছেন শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রবিউল আলম (রনি)
কেন হয়
প্রি-ডায়াবেটিসের প্রধান কারণ শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়া, যাকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বলা হয়। প্রি-ডায়াবেটিসে গ্লুকোজ থাকে খাবার আগে ৬.১-৬.৯ mmol/L আর খাবারের পর থাকে ৭.৮ থেকে ১১ mmol/L। অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে পেটে চর্বি জমা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং পারিবারিকভাবে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে এ রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বির মাত্রা বেশি থাকা এবং গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলেও প্রি-ডায়াবেটিস হতে পারে।
শরীরের ওজন ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমাতে পারলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে
লক্ষণ
প্রি-ডায়াবেটিসে অধিকাংশ মানুষের কোনো লক্ষণ থাকে না। তাই অনেকেই না জেনে এ অবস্থায় বছরের পর বছর থাকেন। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, সহজে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা বা ঘাড় ও বগলের ত্বক কালচে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ
প্রি-ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। শরীরের ওজন ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমাতে পারলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। সপ্তাহে অন্তত আড়াই ঘণ্টা দ্রুত হাঁটা বা মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম এবং সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করা উপকারী। ধূমপান বর্জন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে হবে।
ডায়েটে পরিবর্তন আনতে হবে কি?
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত শাকসবজি, ডাল, আঁশসমৃদ্ধ খাবার, আটার রুটি, লাল চাল বা ব্রাউন রাইস পরিমিত পরিমাণে, মাছ, ডিম ও চামড়াবিহীন মুরগির মাংস খাওয়া ভালো। ফল হিসেবে পেয়ারা, আপেল ও কমলা পরিমিত খাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে চিনি, মিষ্টি, কোমল পানীয়, কেক, পেস্ট্রি, অতিরিক্ত সাদা ভাত, ফাস্টফুড ও বেশি তেল-চর্বিযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত।
কখন পরীক্ষা করবেন?
যাদের বয়স ৩৫ বছরের বেশি, অতিরিক্ত ওজন রয়েছে বা পরিবারের কারও ডায়াবেটিস আছে, তাদের বছরে অন্তত একবার রক্তের শর্করা বা HbA1c পরীক্ষা করা উচিত। প্রি-ডায়াবেটিস ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ৬ থেকে ১২ মাস পরপর পুনরায় পরীক্ষা করা ভালো।




