আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে সেমিনার আটকে দিল দিল্লি পুলিশ

সংগৃহীত ছবি
আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে ভারতের দিল্লিতে আয়োজিত একটি আলোচনা অনুষ্ঠান শেষ মূহূর্তে বাতিল হয়েছে। আয়োজকদের অভিযোগ, অনুষ্ঠান বাতিলের কারণ দিল্লি পুলিশের ‘হস্তক্ষেপ’। এই অনুষ্ঠান নিয়ে অগ্রসর না হতে বলা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
গতকাল শনিবার দিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় (এফসিসি) হওয়ার কথা ছিল এই আয়োজন। আলোচনা হওয়ার কথা ছিল ইউরোপ এশিয়ার সম্পর্ক নিয়ে।
‘ইউরোপ ও এশিয়া: সংলাপ থেকে অংশীদারত্ব ও সমৃদ্ধির পথে’ শিরোনামের এই সভার আয়োজক ছিল এফসিসি ও বেলজিয়ামভিত্তিক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন।
এ অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে থাকার কথা ছিল বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম মাহমুদ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা বিজ্ঞানী ড. নূরুন্নবীর। এ ছাড়া আলোচক ছিলেন বাংলাদেশে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত বীণা সিক্রি, বাংলাদেশে সাবেক জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ, চেক রিপাবলিকের রাজনীতিক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য অন্দ্রেজ দোস্তাল।
এই এফসিসির আয়োজনেই এ মাসের শুরুতে একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়ে থাকা শেখ হাসিনা।
তার সেই সংবাদ সম্মেলন ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েন দেখা যায়। ঢাকা এ নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা দিল্লিকে জানাায়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর বিঘ্নিত হওয়ার ক্ষেত্রেও সেই আয়োজনকে কারণ দেখানো হচ্ছে।
তারমধ্যেই আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে নতুন আলোচনা অনুষ্ঠানটি বন্ধে দিল্লি পুলিশের তৎপরতা দেখা গেল।
আয়োজকরা গতকাল সন্ধ্যায় দেওয়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশের ‘ব্যাখ্যাতীত হস্তক্ষেপের কারণে’ নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি আয়োজন করতে পারেনি ক্লাব।
এফসিসি বলেছে, সিদ্ধান্তটি জানানো হয়েছে স্বল্প সময়ের নোটিসে। পরিস্থিতি ছিল আয়োজক ও এফসিসি সাউথ এশিয়ার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
এদিকে দিল্লি পুলিশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নয়াদিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার শচীন শর্মা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য প্রিন্ট’কে বলেছেন, সেমিনার আয়োজন করার জন্য এফসিসির পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন হয় না। তাদের অনুষ্ঠানে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি।
ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’ জানাচ্ছে, তিলক মার্গ
পুলিশ স্টেশন এফসিসিকে জানিয়েছিল যে, কর্মসূচিটি ‘অনুমোদিত নয়’। এফসিসির লিখিত
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের জবাব ছিল এমন, ‘প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কিছু
বিতর্কের কারণে এই কর্মসূচিটি অনুমোদিত নয়’।
এই হস্তক্ষেপকে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে আয়োজকদের। তাদের দাবি, এ আয়োজন বাংলাদেশকেন্দ্রিক ছিল না। এ অনুষ্ঠানটি পরে সুবিধাজনক সময়ে করার কথা বলেছেন তারা।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের
মহাসচিব আ ফ ম গোলাম জিলানীরও। কিন্তু তিনি ভারতে আসতেই পারেননি। কেননা, তাকে ভিসা
দেয়নি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
জিলানী জানিয়েছেন, তার ভিসার প্রক্রিয়া এখনো চলছে। তবে তিনি বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করেন না।
দ্য ওয়্যার জিলানীর কাছে জানতে চেয়েছিল, তার সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না? জবাবে তিনি বলেছেন, তার সংগঠনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই। তার ভাষ্য, ‘এটা একটা ভুল ধারণা।’
তবে, আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে ফাউন্ডেশনটির অনুষ্ঠান আয়োজনের একাধিক উদাহরণ রয়েছে।
সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের ২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় সংসদে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি সম্মেলন সোশ্যালিস্টস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাটস গ্রুপ, বেলজিয়াম আওয়ামী লীগ এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন যৌথভাবে আয়োজন করেছিল। এতে ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি হিসেবে জিলানীর নাম তালিকাভুক্ত করা হয়।
চলতি বছরের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগের ইউরোপীয় শাখা জানায়, হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইউরোপীয় সংসদে দক্ষিণ এশিয়ায় গণতান্ত্রিক রূপান্তর, মানবাধিকার ও ভূ-রাজনীতি বিষয়ে একটি সেমিনার আয়োজন করা হয় এবং এতে ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অন্য প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জিলানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন এ অনুষ্ঠানে।










