ভারত
ককরোচ পার্টির এক্স অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালুর নির্দেশ আদালতের

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করছে সিজেপি- রয়টার্স
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের ওপর জারি হওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত কেন্দ্রীয় সরকারের ব্লকিং নির্দেশ বাতিল করে জানিয়ে দিয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি এবং তা কেবল ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে কেন্দ্রের ব্লকিং নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলার শুনানিতে বিচারপতি স্বর্ণ কান্তা শর্মা বলেছেন, কোনো মতপ্রকাশের ফলে বাস্তব ও তাৎক্ষণিক জননিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি না হলে শুধু আশঙ্কার ভিত্তিতে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায় না।
শুনানির সময় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দেন, নিট পরীক্ষার পুনরায় আয়োজনের আগে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। সরকারের দাবি, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে ব্লক করা হয়েছিল।
তবে আদালত সেই যুক্তি মেনে নেয়নি। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করে, যে পরিস্থিতির কথা বলে অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছিল, তা এখন আর বিদ্যমান নেই। ফলে বর্তমানে এমন কোনো তাৎক্ষণিক বিপদের প্রমাণ নেই, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপকে ন্যায্যতা দিতে পারে।
রায়ে আদালত স্পষ্ট জানায়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিকদের সরকারকে সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। ব্যঙ্গ, সমালোচনা এবং রাজনৈতিক মতপ্রকাশও গণতান্ত্রিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু সরকারের সমালোচনা করা হচ্ছে বলে কোনো মত বা প্রচারকে নিষিদ্ধ করা যায় না।
নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে সিজেপি দাবি করে, তারা একটি ব্যঙ্গাত্মক ও যুব-নেতৃত্বাধীন ডিজিটাল আন্দোলন, যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম এবং বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে সরব। নিট ২০২৬ বিতর্ক এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা অভিযোগ নিয়ে তারা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এর পদত্যাগের দাবিও তুলেছে সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, ককরোচ জনতা পার্টির মূল এক্স অ্যাকাউন্টটি চলতি বছরের ১৫ মে চালু হয়েছিল। কয়েকদিনের মধ্যেই, ২১ মে ভারত সরকারের নির্দেশে সেটি ব্লক করা হয়। পরে সংগঠনের সমর্থকেরা ‘Cockroach Is Back’ নামে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই অ্যাকাউন্টে ২.২৭ লাখের বেশি অনুসারী জড়ো হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ডিজিটাল মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সরকারি ব্লকিং নির্দেশের বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে। আদালতের বার্তা স্পষ্ট - কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার আগে সরকারকে দেখাতে হবে যে সেখান থেকে বাস্তব, স্পষ্ট এবং তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যথায় মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা যাবে না।







