অনশনে সোনম ওয়াংচুক, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কঠোর আন্দোলনে সিজেপি

অনশন শুরুর আগে সোনম ওয়াংচুক এবং সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধির প্রতি শ্রদ্ধা জানান
ভারতে নিট-ইউজিসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে ঘিরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলেন লাদাখের শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। রবিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুব, কৃষক সংগঠন ও বিভিন্ন নাগরিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) গত ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অবস্থান আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনের দাবি, নিট-ইউজি বিতর্ক কোনও একক পরীক্ষার সমস্যা নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর সংকটের প্রতিফলন।
অনশন শুরুর আগে সোনম ওয়াংচুক এবং সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে যন্তর মন্তরে পৌঁছে দুই মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়। আন্দোলনস্থলে শত শত ছাত্র-যুব এবং কয়েকজন কৃষক নেতাও উপস্থিত ছিলেন।
রবিবার সকালে সমাজমাধ্যমে এক বার্তায় অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের একাধিক কৃষক নেতাকে যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। অভিজিৎ আন্দোলন মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেছেন, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। কিন্তু প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষার অনিয়মের দায় নিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান কোনও জবাব দেননি। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার দায় এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তার পদত্যাগ করা উচিত।
তিনি আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উচিত দ্রুত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানো না হলে পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বাড়বে।
একই সঙ্গে আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবিও তোলেন তিনি। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা।
নিট-ইউজি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এক মাস ধরে দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষার নিরাপত্তা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বারবার প্রশ্ন তুলেছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে এবং পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে জাতীয় স্তরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।




