‘ক্ষমতাহারা’ মমতার প্রথম কর্মসূচি, ধর্মতলায় কী হচ্ছে

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর প্রথমবার বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি দিচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ সামনে রেখে আগামী মঙ্গলবার (২ জুন) কলকাতার ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডে অবস্থান কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে তার দল। এরই মধ্যে কলকাতা পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছে তৃণমূল। পুলিশের অনুমতি পেলে ওই দিন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারানোর পর বিরোধী নেত্রী হিসেবে এটিই হতে পারে তার প্রথম বড় কর্মসূচি।
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ক্ষমতা হারান মমতা। নির্বাচনে পরাজয়ের পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রেও হেরে যান তিনি। ৯ মে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। তখন থেকে কালীঘাটের বাসভবনেই অধিকাংশ রাজনৈতিক বৈঠক সেরেছেন তৃণমূল নেত্রী। বিভিন্ন ইস্যুতে কবিতা ও বিবৃতির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানালেও সরাসরি আন্দোলনের ময়দানে তাকে দেখা যায়নি। তবে এবার সংগঠনকে চাঙ্গা করতে এবং রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিতে রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
দলের দাবি, ভোট-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অবস্থান কর্মসূচির ডাক। যদিও কর্মসূচির অনুমতি পাওয়া নিয়ে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ এর আগে কয়েকটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য আবেদন করলেও অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এমনটাই অভিযোগ তৃণমূলের।
রাজনীতিতে মমতার উত্থানের বড় অংশ জুড়েই রয়েছে পথ-আন্দোলন। নব্বইয়ের দশক থেকে জমি অধিগ্রহণ, কৃষক আন্দোলন, মূল্যবৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক অধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বারবার রাস্তায় নেমেছেন। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের আন্দোলন, ২০০৬-০৮ সালের সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলন এবং তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক আন্দোলন তাকে রাজ্যের প্রধান বিরোধী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়। এমনকি রাজপথের আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে তাকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে পৌঁছে দেয়।
ফলে ২ জুনের সম্ভাব্য কর্মসূচি শুধু ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রতিবাদ নয়, বরং সূচনা হতে পারে নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়েরও।
গত শনিবার দক্ষিণ চব্বিশপরগনার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নজিরবিহীন হামলার মুখে পড়েন ডায়মন্ড হারবারের সংসদ সদস্য তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইটের আঘাত, ডিম-জুতা বৃষ্টি থেকে শুরু করে জামা ছিঁড়ে দেওয়া— বাদ যায়নি কিছুই। এমন ঘটনার পর রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ।






