‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ আহ্বান সোনম ওয়াংচুকের

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে একে একে দানা বাঁধছে ’অ্যান্টি এসটাবলিশমেন্ট’ আন্দোলন। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র আন্দোলন, জেন-জি আন্দোলন, দ্বিতীয় স্বাধীনতা এই শব্দগুলো ঘুরে-ফিরে এসেছে বারবার। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপালের পর জেন-জি আন্দোলন দেখা গেছে ভারতেও। এমনকি সাফল্যও পেয়েছে তারা। সেই সফলতার রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বদলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিয়েছেন পরিবেশ ও সামাজিক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
স্বাধীনতা দিবস (১৫ আগস্ট) উপলক্ষে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় লাদাখের এই আন্দোলনকারী বলেছেন, ভারতের অন্যতম বড় সমস্যা হলো নেতৃত্ব বাছাইয়ের পদ্ধতি। তার মতে, যোগ্য নেতৃত্ব ছাড়া কোনো দেশই সঠিক পথে এগোতে পারে না। তাই রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপরও জোর দিয়েছেন ওয়াংচুক। নিজ নিজ এলাকার ‘নিঃস্বার্থ, নির্ভীক, চরিত্রবান ও যোগ্য’ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাদের নাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানান তিনি। স্বাধীনতা দিবসের উপহার হিসেবে এসব নাম পাঠানোর জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধও জানান এই অধিকারকর্মী।
ভারতের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের অগ্রগতির তুলনাও করেন ওয়াংচুক। তার ভাষ্য, প্রায় ৫০ বছর আগে যেসব দেশ ভারতের চেয়ে পিছিয়ে ছিল কিংবা ভারতের সমপর্যায়ে ছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই এখন দেশটির চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ২০৪৭ সালের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
দেশটির আইনপ্রণেতাদের যোগ্যতা ও চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ওয়াংচুক। তার দাবি, ভারতের বর্তমান পার্লামেন্টের প্রায় অর্ধেক সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এ অবস্থার জন্য কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে দায়ী করেননি ওয়াংচুক। তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসা প্রায় সব দলই কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়েছে এবং ভিন্নমত বা প্রতিবাদী কণ্ঠ দমনের চেষ্টা করেছে। ২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর সরকার পরিবর্তন হলেও এক দশকের মধ্যে দুর্নীতি আরও তিন গুণ বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাকেও দেশের উন্নয়নের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন ওয়াংচুক। পরিস্থিতি বদলাতে ভারতের শীর্ষ চিন্তাবিদ, মেধাবী ও সৎ ব্যক্তিদের নিয়ে বড় পরিসরে আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
দেশের বিভিন্ন শহরে গিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার পাশাপাশি নতুন একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপরেখা তৈরিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন এই আন্দোলনকারী।






