‘যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেও ভোট হয়’

ফাইল ছবি
রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। প্রথম দফার ভোটের প্রস্তুতির মধ্যেই জলপাইগুড়ি জেলায় চ্যালেঞ্জের মুখে নির্বাচন কমিশন। আর সেই চ্যালেঞ্জ হলো ‘চিতাবাঘ’। ভোটাররা যেন চিতাবাঘের মুখে না পড়েই ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে তা নিশ্চিত করতে চলছে দৌড়ঝাঁপ।
জলপাইগুড়ি জেলায় মোট সাতটি ভোটকেন্দ্র। ধুপগুড়ি, ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, রাজগঞ্জ, মাল, নাগরাকাটা এবং মাদারিহাট ব্লকের কিছু অংশ। এর মধ্যে অনেক ভোটকেন্দ্র বন এবং বনের কাছাকাছি।
‘এখানে চিতাবাঘের কারণে মানুষ মারা গেছে, আহত হয়েছে। ভোটকেন্দ্রও একই এলাকায় হওয়ায় ভোট দিতে যেতে ভয় লাগছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভোট দিতে পারি ভয় ছাড়াই’
নাগরাকাটার মতো বনসংলগ্ন এলাকায় বন্য প্রাণীর আতঙ্ক প্রতিদিনের বাস্তবতা। এই বাস্তবতা প্রভাব ফেলতে পারে ভোটার উপস্থিতিতে। বিশেষ করে পরিস্থিতি আরও গুরুতর করে তুলেছে খেরকাটা এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ের চিতাবাঘের হামলায় মৃত্যুর ঘটনা।
স্থানীয়দের মতে, ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সরু পথ ও চা-বাগানের ঝোপঝাড় সন্ধ্যার পর বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আরিফ আনসারি এনডিটিভিকে বলেছেন, ‘এখানে চিতাবাঘের কারণে মানুষ মারা গেছে, আহত হয়েছে। ভোটকেন্দ্রও একই এলাকায় হওয়ায় ভোট দিতে যেতে ভয় লাগছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভোট দিতে পারি ভয় ছাড়াই।’গত ছয় মাসে বিন্নাগুড়ি বন্য প্রাণী দলের হাতে ধরা পড়েছে ৭টি চিতাবাঘ। গত এক বছরে ২ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছে চিতাবাঘের হামলায়।
‘মানুষ যেন নিরাপদে বের হয়ে ভোট দিতে পারে—এটাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ’
এখন উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে জেলার ১০০টির বেশি বনসংলগ্ন বসতি। এই ‘চিতাবাঘ ঝুঁকি’ মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিয়েছে সাধারণ নিরাপত্তার বাইরে গিয়ে। বিরল এক সমন্বয়ে বন বিভাগ, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী একসঙ্গে টহল দেবে বনপথে।
বিন্নাগুড়ি বন্য প্রাণী দলের রেঞ্জার হিমাদ্রি দেবনাথ বলেছেন, ‘মানুষ যেন নিরাপদে বের হয়ে ভোট দিতে পারে—এটাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।’
ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী দায়িত্বে থাকলেও বনকর্মীরা সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছেন। ভোটকর্মীদের দিচ্ছেন জরুরি যোগাযোগ নম্বর। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে, তবে ঝুঁকি এড়াতে দিনের শুরুতেই ভোট দেওয়ার জন্য বাসিন্দাদের জানানো হয়েছে আহ্বান।
এত প্রতিকূলতার মধ্যে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা প্রতীকীভাবেই বলেছেন, ‘যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেও নির্বাচন হয়।’






