মমতা-শুভেন্দু
বন্ধু তুমি, শত্রু তুমি

গ্রাফিক্স: অনন্যা প্রমা
আচ্ছা বলেন তো, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইয়ে কে জিতবে? হারা-জেতার এই যুদ্ধের ঐতিহাসিক পটভূমি কি আপনি জানেন? ট্যাক্সি ড্রাইভারের পাল্টা প্রশ্ন শুনে আগ্রহের পারদ ঊর্ধ্বমুখী সাংবাদিকের। শুনুন মশাই, ৫ বছর আগেও দিদির ডান হাত ছিল এই শুভেন্দু। তারপর কেন দুই বিপরীত মেরুতে হাঁটতে লাগলেন কলকাতার এই দুই দিকপাল রাজনীতিবিদ!
মমতা ও শুভেন্দুর সম্পর্কের এই নাটকীয় রূপান্তরই আজ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়।
‘মমতা ক্রমশ নিজের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় গুরত্ব কমতে থাকে শুভেন্দুর। তৃণমূল রাজনীতির অন্যতম চাণক্য শুভেন্দু কেন নিজের এই অবস্থা মেনে নেবেন?
মুখ্যমন্ত্রী মমতার একাধিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন এই শুভেন্দু। ২০১১ থেকে ২০২০— একসঙ্গে চলা, খাওয়া, কাজ ও পরিকল্পনা তাদের। হঠাৎ ছন্দপতন। দল ও মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে বহুদূরে চলে গেলেন শুভেন্দু।
গত নির্বাচনে মমতা আগ বাড়িয়ে শুভেন্দুর আসন নন্দীগ্রামে নির্বাচন করতে গিয়ে হেরে লজ্জায় ডোবেন। ভবানীপুরে মানে নিজের আসনে এবার ফিরে এসে ভোটে দাঁড়ান মমতা। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও হাত বাড়িয়ে মমতার প্রতিদ্বন্দ্বী এখন শুভেন্দু; তা-ও আবার প্রধানমন্ত্রী মোদির দলের হয়ে!
কী এমন ব্যাপার ঘটেছিল— শোনা যাক রাজনীতির খোঁজ রাখা গোপাল মাইতির মুখে। ‘মমতা ক্রমশ নিজের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় গুরুত্ব কমতে থাকে শুভেন্দুর। তৃণমূল রাজনীতির অন্যতম চাণক্য শুভেন্দু কেন নিজের এই অবস্থা মেনে নেবেন? বরং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অনেকটা হিরো বনে যান।’
এবার একজনই শুধু দুই বিধানসভার আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি শুভেন্দু অধিকারী। তার ঘোষণা, ‘যেই আসনে প্রার্থী হবেন মমতা সেইখানে আমি তাকে হারিয়ে দেব। কত বড় হুমকি? ভাবা যায়!
মেদিনীপুরের ভোটার পবিত্র, থাকেন কলকাতায়। মমতাকে একচোট নিলেন, ‘যিনি বিএ পাস বেকারকে চাকরি না দিয়ে আলুর চপের দোকান দিতে বলেন—তার বিরুদ্ধে ভোট দেব এবার।’
কাল প্রথম ধাপে ১৫২ বিধানসভা আসনে ভোট হবে। অর্থাৎ কলকাতার বাইরে এই ভোট। ১৪২ আসনে কলকাতার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। ফল ৪ মে। যেই জিতুক, ভোট শান্তিপূর্ণ করার আয়োজন রেখেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন এবার প্রথমবার কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছে। গঠন করেছে কুইক রেসপন্স টিম।
আজ প্রায় সব বড় দৈনিক পত্রিকায় বিজেপির বিজ্ঞাপনের ভাষা, ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।’ আর এক ধাপ এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিশাল সাইজের হোডিং, ‘যে লড়ছে সবার ডাকে, সেই জেতাবে বাংলা মাকে’
আড়াই হাজার কেন্দ্র চিহ্নিত করে কেন্দ্র থেকে আসা সেনাবাহিনী আগে থেকে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করছে। এই কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক মন্তব্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ধীমান সেনের। ‘এই নির্বাচনে বুথ দখল করতে দেবে না কমিশন। মুখে সবাই মমতার কথা বলছে, আবার ভেতরে অন্য সুর অনুমান করা যায়’।
সিভিল সোসাইটির আরেক শক্তিমান প্রতিনিধি সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্য। তার বিশ্লেষণ, ‘কঠিন লড়াইয়ের আভাস। শেষ অবধি মমতার সরকার ক্ষমতায় থাকবে হয়তো।’
তাহলে মমতার দিন শেষ!
২১ এপ্রিল ২০২৬
৩৪ বছর ধরে বাংলার ক্ষমতায় থেকে বামপন্থি সিপিএমের করুণ বিদায় শোষণীয় হারে। ১৫ বছর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেই ইতিহাস রচনা করেছিলেন তার বিজয় দিয়ে— একই স্বপ্নে বিভোর এখন বিজেপি। যারা কেন্দ্রের শাসক এখন, মোদির বিজেপি বাংলা দখলে নিতে চায় মনে-প্রাণে।
আজ প্রায় সব বড় দৈনিক পত্রিকায় বিজেপির বড় বিজ্ঞাপনের ভাষা, ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।’ আর এক ধাপ এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিশাল সাইজের হোডিংয়ে, ‘যে লড়ছে সবার ডাকে, সেই জেতাবে বাংলা মাকে।’
ভোট এমন এক যুদ্ধ, ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত কলকাতায় নির্বাচনী সমাবেশে মমতার হুংকার, গাদ্দার তালিকা করে দিয়েছে, কাকে কাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। নির্বাচনের পরে তুমি নিজেকে সামলাও— এই ভাষা শুভেন্দুর জন্য।
আর শুভেন্দুর কেন্দ্রীয় নেতা হোম মিনিস্টার অমিত শাহ নির্বাচনী সভায় দিয়েছেন পাল্টা হুঁশিয়ারি, ‘মমতার গুন্ডারা কান খুলে শুনে নাও, নির্বাচনে বাধা দিলে, ঘর থেকে বের হলে ৪ মের পর উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করা হবে।’





