লক্ষ্মীপুর
মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে নগ্ন করে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতন

সংগৃহীত ছবি
মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ইয়াসিন নূর রিপনী। তাকে মারধর ও নগ্ন করে শরীরে মরিচের গুঁড়া দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত তার দুই ভাইয়ের স্ত্রী। মারধরের কারণ ভিক্ষাবৃত্তির টাকা ফেরত চান রিপনি।
বুধবারের (২২ এপ্রিল) এ ঘটনা নিশ্চিত করেন ভুক্তভুগী রিপনী বেগম নিজেই। তার অভিযোগ, ভাবি খাদিজা বেগম ও সুরভী বেগমের বিরুদ্ধে। রিপনীর বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নে।
স্থানীয়রা জানান, রিপনী মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনি ভিক্ষা করেন। যা আয় হয়, ভাবি খাদিজা বেগমকে দিতেন। সম্প্রতি টাকা নিয়ে রিপনীর সঙ্গে তার বিরোধ হয়। রিপনী তার ভাবির কাছে ভিক্ষাবৃত্তির প্রায় ৫ লাখ টাকা ফেরত চান। পরে খাদিজা ও সুরভী বেগম রিপনীকে মারধর করেন এবং নগ্ন করে শরীরে ছিটিয়ে দেন মরিচের গুঁড়া।
ভুক্তভুগী রিপনী বেগমের ভাষ্য, ‘খাদিজা ও সুরভী মিলে আমাকে মারধর করেন। নগ্ন করে শরীরে ছিটিয়ে দেন মরিচের গুঁড়া।’
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন জানান, এটি একটি বর্বর ঘটনা। একজন অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে এভাবে নির্যাতন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
‘আমার বোন প্রায়ই ঝগড়া করে, তাই মারামারি হয়েছে। মরিচের গুঁড়া দেওয়া ঠিক হয়নি’— বললেন অভিযুক্ত খাদিজার স্বামী ইসমাইল।
সুরভীর স্বামীর মন্তব্য, ‘আমি থামাতে গেলে আমার চোখেও দেওয়া হয় মরিচের গুঁড়া। মারধর করে তাড়িয়ে দিয়েছে আমাকে। কিছু সময় আমি প্রায় অন্ধ ছিলাম।’
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর মা বলেছেন, ‘আমার মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ, মাঝে মাঝে গালাগালি করে। তাই একটু মারধর করেছে ছেলের বউরা। তবে মরিচের গুঁড়া দেওয়া ঠিক হয়নি।’
এ ধরনের কোনো খবর আমাদের জানা নেই। যদি অভিযোগ আসে তাহলে ব্যবস্থা নেব— জানান লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।



