‘সেই হাম এখন মহামারী হয়ে আমার সন্তানের শরীরে’

ফেসবুক থেকে
শিশুদের হাম এখন আতঙ্কের নাম। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিনই হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অনেক শিশু। প্রতিদিনই আসছে মৃত্যুর খবর। বাবা-মায়ের কাছে তাই এখন হাম আতঙ্কের নাম।
আজ বুধবার হাম নিয়ে এক বাবার আর্তনাদের পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই পোস্টের শিরোনাম দিয়েছেন তিনি ‘রাষ্ট্র আমার সন্তানকে হাম উপহার দিল।’ এই পোস্টে ৪ ঘণ্টায় ৩৭ হাজার রিয়েকশন পড়েছে। মন্তব্য ও শেয়ার হচ্ছে হাজার হাজার।
মুশফিকুর রহমান নামের এই বাবা নিজের হাম আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে লিখেছেন, ‘আজ থেকে সাত মাস আগে এভাবেই সন্তানকে প্রথম কোলে নিয়েছিলাম। তারপর থেকে একটু একটু করে সে বড় হয়ে উঠল। হাসি শিখল। অফিস থেকে এসেই আমি প্রথমে তাকে ডাক দেই ‘বাবা....।’ সাথে সাথেই একটা ফিক করে হাসি দেয়। আমার ছেলে জন্মের পর শুধু ক্ষুধা লাগলে কাঁদে। কাঁদলে বুঝতাম খাওয়াতে হবে। খাওয়ানো শুরু আর চুপ। কোনোদিন সে সারা রাত আমাদের জাগিয়ে রাখেনি। কী লক্ষ্মী বাচ্চা আমার, কাঁদে না, রাত জাগে না। এবার জ্বর শুরুর প্রথম এক মাস সে ১০১ ডিগ্রি জ্বর নিয়েও কখনো কাঁদেনি। ঐ অবস্থাতেও আমাকে দেখলে হাসত।’
ছেলেকে কোলে নিয়ে তোলা ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘সেই ছেলে আমার কিছুদিন হলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা কাঁদে। ঘুমাতে চায় না। পরীক্ষা করে দেখলাম নিউমোনিয়া। দেড়ি না করে হাসপাতালে ভর্তি করলাম। গতকাল আমি অফিস গেছিলাম। যতক্ষণ আমি ছিলাম না সে একটা মিনিটও কান্না থামায়নি। আমি আসার পর একটু কোলে নিয়ে গল্প করার সাথেই চুপ। জানি না আমার জন্যই অপেক্ষা করছিল কি না। আজ তার শরীর হামে ভরে গেছে।
‘বিয়ের ছয় বছর পর আমাদের আল্লাহ একটা ছেলে দিয়েছেন। কী সুন্দর দেখতে আমার ছেলেটা। সেই সুন্দর শরীরের প্রতিটা জায়গায় এখন হাম। হাসি সে ভুলে গেছে, এখন তার ভাষাই হলো কান্না।’ যোগ করেন মুশফিকুর।
তার আক্ষেপ, ‘আজ সারা দিন অনেক কেঁদেছি। ছেলের কাছে মাফ চেয়েছি বহুবার। এই দেশে তাকে জন্ম দেবার জন্য মাফ চেয়েছি। এমন এক দেশে তাকে এনেছি, যেই দেশের নেতারা জ্বর হলেও সিঙ্গাপুর যায়। তাদের সন্তানরা বিদেশে উন্নত জীবন যাপন করে। গত কয়েক বছর নাকি আমাদের সন্তানদের জন্য টিকা কেনার প্রয়োজন তারা মনে করেনি। আর সেই হাম মহামারী হয়ে আমার সন্তানের শরীরে চলে এসেছে। সরি বাবা, আমি সত্যি অনেক সরি।’
এদিকে হাম প্রসঙ্গে আজ সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিগত স্বৈরাচারী শাসনামল এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় হামের টিকা আমদানি করা হয়নি। কয়েক বছর ধরে চলা এই অবহেলার কারণে দেশে টিকার তীব্র সংকট তৈরি হয়, যার চরম মূল্য দিতে হয়েছে শিশুদের।’
‘টিকা না থাকায় অনেকগুলো শিশুর প্রাণ ঝরে গেছে— এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং দুঃখজনক। পূর্ববর্তী সরকারগুলোর এই অদূরদর্শিতা শিশুস্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।’ যোগ করেন তিনি।




