শ্রীজাতের নামে ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানা’, কী ঘটছে পশ্চিমবঙ্গে

কোলাজ
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন বলে পরিচিত কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। রাত পোহালেই বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট । আর আগের দিন তাকে নিয়েই উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনীতি।
আজ বুধবার গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়, শ্রীজাতের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে শিলিগুড়ির একটি আদালত। এর পরই শুরু হয় বিতর্ক। নির্বাচনের আগে তৃণমূল প্রধানের একজন আস্থাভাজনের গ্রেপ্তারের খবরকে অনেকেই দেখছে বাঁকা চোখে।
তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি গ্রেপ্তারের খবরটি সঠিক নয়। যদিও শ্রীজাতের পাল্টা দাবি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে তার ওপর।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে শ্রীজাতের বিরুদ্ধে। বিতর্কটির সূত্র ২০১৭ সালের একটি মামলায়, যা শ্রীজাতের প্রকাশিত একটি কবিতাকে কেন্দ্র করে। সে বছর ১৯ মার্চ উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন যোগী আদিত্যনাথ। এরপর শ্রীজাত ফেসবুকে ‘অভিশাপ’ শিরোনামে পোস্ট করেন ১২ লাইনের একটি কবিতা।
এই কবিতাকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কিছু হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী অভিযোগ তোলে যে এতে ব্যবহৃত ‘ত্রিশূল’ প্রতীকের উল্লেখ আঘাত করেছে ধর্মীয় অনুভূতিতে।
এরপর বাগডোগরার এক কলেজ শিক্ষার্থী অভিযোগ দায়ের করেন শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৫/এ ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
এরপর দীর্ঘ সময় মামলার হয়নি তেমন অগ্রগতি। ২০২২ সালে কলকাতা হাইকোর্ট পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়, কারণ এফআইআর থাকা সত্ত্বেও উঠেছিল নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ।
শ্রীজাত আগেও বলেছেন, তার কবিতার ব্যাখ্যা করা হয়েছে ভুলভাবে। তিনি এটিকে দেখেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন হিসেবে।
এ মামলাতেই বুধবার তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয় গণমাধ্যমের খবরে।
তবে নির্বাচন কমিশন এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, কবির বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়নি। তারা ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানোর’ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানায়।
এর পরপরই ফেসবুকে এক পোস্টে শ্রীজাত লেখেন, ‘আমার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। খবরটি ভুয়া নয়, একশো ভাগ সত্যি। আপাতত এটুকুই। বাকি কথা পরে হবে।’
এদিকে বুধবার এক জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘সকাল থেকে ফোন আর মেসেজে পাগল হয়ে যাচ্ছি। শ্রীজাতকে নাকি কেউ ফোন করে বলেছে, তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ওকে ফোন করলাম। এসব কী হচ্ছে?’
তিনি যোগ করেন, ‘পুলিশ তো এখন আমার হাতে নেই। আমাকে চেনেই না। বিজেপিকে চেনে এখন। আমি তাদের সতর্ক করছি, পরে কিন্তু এখানেই কাজ করতে হবে।’
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন, মাতৃভূমি





