গণতন্ত্রকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন মমতা: সুপ্রিম কোর্ট

সংগৃহীত ছবি
‘গণতন্ত্রকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ঠিক এক দিন আগেই মন্তব্য করেছেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আসে এ মন্তব্য।
ইডির অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির (আই-প্যাক) কার্যালয়ে তল্লাশি ও তদন্তে বাধা দিয়েছেন। জানুয়ারির শুরুতে মানি লন্ডারিং তদন্তের অংশ হিসেবে চালানো হয় এই তল্লাশি।
সুপ্রিম কোর্ট বললেন, ‘এটি রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে কোনো বিরোধ নয়। কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তদন্ত চলাকালে সেখানে ঢুকে গণতন্ত্রকে বিপদের মুখে ফেলতে পারেন না। তারপর বলতে পারেন না যে, এটিকে কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধে পরিণত করা উচিত নয়।’
সংস্থার দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে আই-প্যাকের অফিস এবং এর প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় ঢুকে একটি ল্যাপটপ, ফোন ও বেশ কিছু নথি নিয়ে বেরিয়ে যান।
শীর্ষ আদালত জোর দিয়ে বলেছেন, ‘এটি এমন এক ব্যক্তির কাজ, যিনি মুখ্যমন্ত্রী। এর মাধ্যমে পুরো গণতন্ত্রকেই ফেলা হয়েছে ঝুঁকির মুখে।’
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই তল্লাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করার চেষ্টা।
সুপ্রিম কোর্ট আরও উল্লেখ করেন, ‘সংবিধান প্রণেতারা এ ধরনের পরিস্থিতি কখনো কল্পনাও করেননি। আপনারা আমাদের এইচ এম সিরভাই, বি আর আম্বেদকরের লেখা দেখিয়েছেন। কিন্তু তাদের কেউই ভাবেননি যে, একদিন কোনো ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী তদন্ত চলাকালে সরাসরি সেখানে ঢুকে পড়বেন।’
এ ছাড়া মালদার কালিয়াচক ২ ব্লক উন্নয়ন অফিসে তিন নারীসহ সাত বিচারিক কর্মকর্তাকে কয়েক ঘণ্টা ধরে ঘেরাও করে রাখার ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন আদালত। অভিযোগ ছিল, প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তালিকা থেকে।
চলমান স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বিশালসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জেরে তৈরি হয় এই অচলাবস্থা।
আদালত আরও বলছিলেন, ‘এটি একেবারেই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। আমরা দেখেছি, বিচারিক কর্মকর্তাদের জিম্মি করে রাখা হয়েছে। এমন অবস্থায় আবেদনকারীকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যেতে বলবেন? আমরা বাস্তবতা থেকে চোখ বন্ধ করতে পারি না। আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করতে হয় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে। স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশ মহাপরিদর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাতের দিকে কর্মকর্তাদের উদ্ধার নিশ্চিত করেন তিনি।
আদালত সতর্ক করেন, ‘এটি সাধারণ কোনো মামলা নয়। এটি একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি, যেখানে বাস্তব সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিচার প্রক্রিয়াও ক্রমাগত পরিবর্তনশীল।’


