ভারতের জেন জি বিক্ষোভ
অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক

২৬ দিনের অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন ভারতের সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। ছবি: সংগৃহীত
টানা ২৬ দিনের অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন ভারতের সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সরকারের এমন আশ্বাস পাওয়ার পর গুরগাঁওয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অনশন ভাঙেন তিনি।
অনশন ভাঙানোর সময় তার হাতে পানীয় তুলে দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। এ সময় ছিলেন ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোও।
মধ্যরাতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সোনম ওয়াংচুক বলেন, ‘এইমাত্র কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা ও ডা. জিতেন্দ্র সিং এবং লেহ-লাদাখের শীর্ষ সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে ২৬ দিন পর আমি আমার অনশন ভেঙেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন শর্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা এবং দেশে সম্ভাব্য সহিংসতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি জানান, কোন শর্তে অনশন ভেঙেছেন, সে বিষয়ে পরে বিস্তারিত ভিডিও বার্তায় তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতা যেন না হয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বার্তায় সোনম ওয়াংচুকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি সোনমজিকে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার এবং যত দ্রুত সম্ভব আগের ওজন ফিরে পাওয়ার আহ্বান জানাই। ঈশ্বরের কাছে তার সুস্বাস্থ্য কামনা করি।’
অনশন ভাঙার এ সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি বলেন, ‘আমি স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা অনুভব করছি যে তিনি অনশন শেষ করেছেন।’ ওয়াংচুকের সাহস ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে আপনি পুরো জাতির বিবেককে জাগিয়ে তুলেছেন। এই দেশের জন্য আপনার জীবন অত্যন্ত মূল্যবান।’ তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবিতে গত ২৮ জুন অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন তিনি। গত শনিবার তাকে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে নেওয়া হলেও অনশন ভাঙতে জানান অস্বীকৃতি। পরে তার স্ত্রী দিল্লি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালতের অনুমতিতে তাকে গুরগাঁওয়ের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ২৬ দিনের অনশনে অন্তত ১১ কেজি ওজন কমেছে তার।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্র সরকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়। শিক্ষা সচিবকে অপসারণ করা হয়, এ ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালত গঠন করা হয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।





