মণিপুরের পাহাড়ে ফের আতঙ্ক, রাতারাতি পুড়ল একের পর এক বাড়ি
- ১০ জনের মৃত্যুর খবর, ঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন বাসিন্দারা
- গ্রামে গ্রামে হামলার অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন

কামজং, উখরুল ও কাংপোকপিতে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
রাতের অন্ধকারে গুলির শব্দ, একের পর এক বাড়িতে আগুন, আর প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছেড়ে পালানোর তাড়া। মণিপুরের পাহাড়ি জেলাগুলিতে নতুন করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় এমনই পরিস্থিতির খবর সামনে এসেছে। কামজং, উখরুল ও কাংপোকপিতে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। একাধিক গ্রামে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা ও ঘটনাগুলির বিবরণ এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
রবিবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুকি জঙ্গি ও নাগা গ্রামরক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরেই নতুন করে অশান্ত হয়ে উঠেছে এলাকাগুলি। শুক্রবার রাতে কামজং জেলার চাসাদ এলাকায় ইন্ডিয়ান রিজার্ভ ব্যাটালিয়নের (আইআরবি) একটি টহলদলের উপর হামলার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় বলে খবর।
চাসাদে হামলার পর গুলির লড়াই শুরু হয়। সেই সংঘর্ষে জঙ্গিদের সহায়তা করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠা এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এরপর নাগা সাধারণ নাগরিকদের উপর হামলা এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ সামনে আসে।
কামজং জেলা সদর এলাকায় ন'টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। চাসাদ থানার বিপরীত দিকেও ২৩টির বেশি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা সংঘর্ষে দুই কুকি জঙ্গির মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন দুই নাগা গ্রামরক্ষী।
চাসাদের কাছেই নিংচৌ গ্রামে বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনের দাবি, ওই ঘটনায় দুই সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়। হামলাকারীরা পরে মায়ানমারের দিকে পালিয়ে যায় বলেও খবর। তবে এই ঘটনাগুলির বিস্তারিত বিবরণ এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
কামজংয়ের বাইরেও পরিস্থিতি শান্ত নয়। উখরুল জেলায় ইম্ফল-উখরুল সড়ক ধরে নিজের কৃষিজমিতে যাওয়ার সময় এক গোর্খা সম্প্রদায়ের নাগরিককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
কাংপোকপি জেলার মাকুই আশাং নাগা গ্রামে হামলায় তিন নাগা গ্রামরক্ষীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজনের শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তাপোন লিয়াংমাই গ্রামে হামলায় আরও এক সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু এবং দু'জনের আহত হওয়ার খবর রয়েছে।
এরপর পনরিংলং নাগা গ্রামে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। চারোই পাণ্ডংবা খুনথাক এলাকায় প্রায় ১০টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে। আতঙ্কে বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত দল মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পরপর হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং মৃত্যুর খবর ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
২০২৩ সালের মে মাস থেকে হিংসায় জর্জরিত মণিপুরে নতুন করে এই সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, সংঘর্ষের আঁচ সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকাকে আরও বিপর্যস্ত করতে পারে। হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং বিভিন্ন হামলার পিছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নির্ভরযোগ্য সরকারি বিবরণ সামনে আসেনি।



