যন্তর মন্তর-কাণ্ডে দুই নেতার মুক্তি চেয়ে দিল্লি হাই কোর্টে সিজেপি

সংগৃহীত ছবি
যন্তর মন্তর-কাণ্ডে কারাবন্দি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার মুক্তির দাবিতে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে দলটি। নিম্ন আদালতের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দুদিন বাড়ানোর নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মঙ্গলবার জরুরি শুনানির আবেদন করেছেন তাদের আইনজীবীরা। মঙ্গলবার রাতেই শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সিজেপি। তবে হাই কোর্ট শুনানির সময় নির্ধারণ করেছে কি না বা কোনো নির্দেশ দিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে নিষিদ্ধ এলাকায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শান্তিভঙ্গের অভিযোগে সৌরভ ও আশুতোষকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। প্রথমে তাদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। সোমবার সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মন্দির মার্গ থানার বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) তাদের হেফাজতের মেয়াদ আরও দুদিন বাড়িয়ে দেন। ওই নির্দেশের বিরুদ্ধেই উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সিজেপি।
মঙ্গলবার আইনজীবী অভীক চিমনি দুই নেতার অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে হাই কোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন জানান। সিজেপির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিংহ সমাজমাধ্যমে এ পদক্ষেপের কথা জানিয়ে দাবি করেন, রাজনৈতিক কারণে দুই নেতার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে। তাদের আর এক মুহূর্তও কারাগারে রাখা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ অক্টোবর। তৎকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। পুলিশের দাবি, ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৌরভ, আশুতোষ ও দলের প্রধান অভিজিৎ দীপকেকে আটক করা হয়েছিল। পরে নির্দিষ্ট বন্ডে সই করিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। শর্ত ছিল, এক বছর তারা শান্তিভঙ্গ বা কোনো ধরনের অশান্তিতে জড়াতে পারবেন না।
তবে অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে যন্তর মন্তরে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লোহার গেট টপকে সেখানে ঢোকেন সৌরভ ও আশুতোষ। তারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে স্লোগানও দেন। এরপর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নিম্ন আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, আগের বন্ডের শর্ত সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও দুই নেতা তা লঙ্ঘন করেছেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই এবার উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই শুরু করেছে সিজেপি।




