শান্তির মুচলেকায় সই করতে নারাজ নেহা

শান্তি রক্ষার মুচলেকায় সই করতে রাজি নন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভানেত্রী নেহা বোরা। তার অভিযোগ, এই মুচলেকা আদায়ের চেষ্টা আসলে সরকারের বিরোধিতা করার অধিকার কেড়ে নেওয়ার কৌশল। বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের জারি করা নোটিসের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করে ধাক্কা খাওয়ার পরও নিজের অবস্থানে অনড় বামপন্থী এই ছাত্রনেত্রী। গত ২৪ অক্টোবর সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো শান্তির মুচলেকায় সই করবেন না। জানা যায়, আগামী ২৯ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যুব আন্দোলনের অন্যতম মুখ নেহা। তার বক্তব্য, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা গণতান্ত্রিক অধিকার। সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা কীভাবে শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
নেহা বললেন, ‘আমি কাদের শান্তি বজায় রাখতে বলছি? এ ধরনের মুচলেকায় সই করা মানে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার ছেড়ে দেওয়ারই শামিল।’ তার কথায়, সংবিধান নাগরিকদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে প্রতিবাদ করার অধিকার দিয়েছে। অথচ শান্তিভঙ্গের আশঙ্কার কথা বলে এ ধরনের মুচলেকা চাওয়া হচ্ছে। নোটিসের বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নেহা যে সংগঠনের নেতৃত্ব দেন, সেই আইসা সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন। শনিবার দলের সংসদীয় কার্যালয়ে নেহা বলেছেন, এ ধরনের মুচলেকা আদায়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তার দাবি, আদালতেও এ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মামলার পরবর্তী পর্যায়ে তারা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করছেন। বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিসে নেহাকে ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং একজন জামিনদার দিতে বলা হয়েছিল। তদন্ত চলাকালে শান্তি বজায় রাখার শর্তে এই মুচলেকা চাওয়া হয়। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কারও বিরুদ্ধে শান্তিভঙ্গ, জনশান্তি নষ্ট করা বা অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে এমন কাজের বিশ্বাসযোগ্য আশঙ্কা থাকলে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ ধরনের বন্ড চাইতে পারেন।
আদালতের নির্দেশের পর শনিবার বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হন নেহা। তাকে মামলা-সংক্রান্ত নথি দেওয়া হয়। পরবর্তী শুনানি ২৯ অক্টোবর। এদিন মন্দির মার্গ থানার বাইরে একদল দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদী ব্যক্তি নেহার বিরুদ্ধে এবং সেনা ও পুলিশের সমর্থনে স্লোগান দেন।



