হামলার জেরে শারীরিকভাবে অসুস্থ অভিষেক, সিআইডির তলবে হাজিরা স্থগিত

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সোনারপুরে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আজ সোমবার সিআইডির তলবে ভবানীভবনে হাজিরা দিলেন না তিনি। দলীয় ও তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত বিশ্রামে রয়েছেন অভিষেক।
সূত্রের খবর, তৃণমূলের কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে চলা তদন্তের অংশ হিসেবে সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলায় আহত হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এদিন উপস্থিত হতে পারেননি তিনি।
জানা যায়, এখনও তার একাধিক চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরীক্ষা বাকি। চোয়ালে ব্যথা, শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে চিকিৎসকেরা তাকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। সেই কারণেই তদন্তে সহযোগিতা করার ইচ্ছা থাকলেও কিছুটা অতিরিক্ত সময় চাওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।
শনিবার সোনারপুরে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে অভিষেকের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাদের নেতাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং হামলা করা হয়েছিল। যদিও বিরোধীরা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এই ঘটনার পর রবিবার চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয় অভিষেককে। দলীয় সূত্রের খবর, তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ নন তিনি। সেই কারণেই তদন্তকারী সংস্থার কাছে নতুন তারিখ চেয়ে আবেদন করা হতে পারে। ফলে অভিষেকের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সিআইডির পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্ত থেকে পালাচ্ছেন না। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে তিনি বিশ্রামে রয়েছেন। সুস্থ হলেই প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবেন।’
তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ।
এ রাজনীতিবিদের অভিযোগ, হামলার পর ঘটনাটিকে গুরুত্বহীন দেখানোর চেষ্টা হয়েছে।
কুণালের ভাষ্য, অভিষেক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছিল। গোটা দেশ এই ঘটনার নিন্দা করছে।
এছাড়াও কুণাল ঘোষ সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রতিবাদ জানালেও তৃণমূলের অনেক জনপ্রতিনিধি ও পদাধিকারীর নীরবতা তার নজরে এসেছে। এই নীরবতা নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।






