বাংলাদেশের হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে নতুন নিয়ম ভারতে

সিএএতে আবেদন করে নাগরিকত্ব পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৫০০-এর কাছাকাছি শরণার্থী। প্রতীকী ছবি
প্রতিবেশী দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভারতের নাগরিকত্ব দিতে নতুন নিয়মের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নথির সমস্যায় যেভাবে বহু শরণার্থী নাগরিকত্ব পাওয়া থেকে দূরে রয়েছেন, সেই সমস্যাকে সহজ করতে এবার পাসপোর্টের নথির সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। আদৌ প্রতিবেশী দেশের বাসিন্দা হয়ে কারা আবার ভারতের বাসিন্দা হতে চাইছেন, তা চিহ্নিত করতে চাইছে দেশটি।
ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের সময়ে যে নতুন ভোটার তালিকা তৈরি হয়েছে, তাতে বাদ পড়েছে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া শরণার্থীদের নাম। বাংলার মন্ত্রীরা মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে সাফ জানিয়েছেন, ভারতের নাগরিকত্ব না থাকলে সরকারি সুযোগ সুবিধা বা ভাতা থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া স্পষ্ট বলেছেন, ‘ভোটার তালিকায় যাদের নাম নেই, তারা সরকারি সুবিধা পাবেন না। যারা এসআইআর ও ট্রাইবুনালে বিচারাধীন এবং যারা সিএএতে আবেদন করেছেন তাদের সরকারি পরিষেবা দেওয়া হবে।’ সেই পরিস্থিতিতে সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্ব দিতে নতুন নিয়মের ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
মঙ্গলবার ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে গেলে সেই ব্যক্তির কোনো দেশের পাসপোর্ট রয়েছে কি না তার স্পষ্ট করতে হবে। আইনে সংযোজন করে যে শর্ত যুক্ত করতে বলা হয়েছে, সেখানে নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের উল্লেখ করতে হবে, তার বাংলাদেশে, পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের কোনো পাসপোর্ট বা মেয়াদ উত্তীর্ণ পাসপোর্ট নেই। অথবা যাদের পাসপোর্ট রয়েছে তাদের উল্লেখ করতে হবে। কোনো দেশের পাসপোর্ট তাদের রয়েছে, তার বিস্তারিত ফর্ম ফিলাপের সময় জমা দিতে হবে।
এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ সিএএতে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন। যা পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু শরণার্থীদের মাত্র ২০ শতাংশের কাছাকাছি। মূলত কোনো নথি না থাকার জন্যই তারা আবেদন করেননি।
সিএএতে আবেদন করে নাগরিকত্ব পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৫০০-এর কাছাকাছি শরণার্থী। এই নাগরিকত্ব পাওয়ার হার থেকেই স্পষ্ট নথি না থাকায় আবেদনে সাড়া দিচ্ছে না ভারত সরকার।
তাই এবার আবেদনের নিয়ম আরও একটু সহজ করার পথে দিল্লির সরকার। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার পরে বড় অংশের শরণার্থীরা ভারতের নাগরিকত্বের বিভিন্ন নথি বানিয়েছিলেন। কিন্তু তার মধ্যে ভোটার কার্ডকে ভোটার হিসাবে প্রামাণ্য নথির তালিকায় রাখছে না ভারত সরকার। যার ফলে বহু শরণার্থীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অথচ বহু মানুষের পাসপোর্ট রয়েছে। তাই এবার পাসপোর্টের নথি পেশের মধ্যে দিয়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার পথে ভারত।
তবে তার থেকেও বড় বিষয় হল বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের বাসিন্দা হয়েও কেউ ভারতের নাগরিক হতে চাইছেন কিনা, তা যাচাই করা। বাংলায় নতুন ভোটার তালিকা তৈরির সময় দুই দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের মধ্যে হিন্দু শরণার্থীরা পাসপোর্টের বিবরণ জমা দিলে এবং বাংলাদেশের পাসপোর্ট ত্যাগ করলে সহজেই তাদের নাগরিকত্ব দিতে পারবে ভারত, এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।






