সিজেপির সমাবেশে বাধা নেই আদালতের

রয়টার্স
ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলে দিল্লির বুকে শনিবার নামতে চলেছে ককরোচ জনতা পার্টি। ঠিক তার আগের দিনই আদালত থেকে নৈতিক জয় পেলেন বিদ্রোহীরা। তাদের যন্তর মন্তর পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে থামিয়ে দিতে যে মামলা হয়েছিল, তা জরুরি ভিত্তিতে শুনলেনই না দিল্লি হাইকোর্ট।
অন্যদিকে শুক্রবারই প্রস্তুতি শুরু করেছে দিল্লি পুলিশও। তবে আন্দোলনের প্রথম সারিতে নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকা সোনম ওয়াংচু জানিয়ে দিলেন শনিবার দিল্লি পুলিশের অন্তরাত্মা জাগাতে ফুল হাতেই হবে আন্দোলন।
শিক্ষা থেকে যুবসমাজের বিভিন্ন নিয়োগের পরীক্ষার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের যে ব্যর্থতা, তার বিরুদ্ধে প্রথমবার শনিবার পথে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি। তার আগে শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তর চত্বর কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। দাঁড় করানো হয়েছে উঁচু উঁচু ব্যারিকেড। যদিও দিল্লি পুলিশ দুপুরে দাবি করে, এই কর্মসূচির জন্য এখনো দিল্লি পুলিশের কাছে পৌঁছায়নি কোনো চিঠি।
তবে সিজেপি বলছে, পুলিশের অনুমতি না মিললেও তারা শনিবার পথে নামবেন এবং যন্তর মন্তর পর্যন্ত যাওয়ার চেষ্টা করবেন। জেন জি মুখপাত্র সৌরভ দাসের ভাষ্য, ‘এভাবে অনুমতি নিয়ে কি কোনো গণতান্ত্রিক দেশে আন্দোলন হয়? এই প্রথাই আমরা বদলাতে চাই। এই পরিবর্তনই আমাদের দাবি।’
এরই মধ্যে সিজেপি ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে তাদের মূল লক্ষ্য। সেই পথে শনিবারের আন্দোলনে কোন কোন বিষয়গুলিকে তারা জোর দিচ্ছেন। আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকা লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচু ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘শনিবারের আন্দোলনে আমাদের হাতে থাকবে লাদাখের অভ্যর্থনা করার সাদা ওড়না অথবা ফুল। সামনে অনেক পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কর্মী থাকবেন। তাদেরও বিবেক রয়েছে। তাদের ঘরে এমন শিক্ষার্থী রয়েছে যারা আজকের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই ফুল দিয়ে তাদের বিবেক জাগিয়ে তুলব।’
সোনমের এই বার্তার পরই সংগঠনের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয় শনিবার সকাল ৯টায় যন্তর মন্তরে অভিযানের। সেই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়, এই আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে। সবার হাতে যেন ভারতের জাতীয় পতাকা ও একটি করে বই থাকে। সমস্ত পথ ও প্রক্রিয়া সবাইকে ফোনে রেকর্ড করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে যদি কাউকে আন্দোলনের জায়গায় কোনো রকম অশান্তি তৈরি করতে দেখা যায়, তবে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। এমনকি পুলিশকে দেওয়ার জন্য যে ফুল আনার বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা যেন সবাই হাতে করে পুলিশকর্মীদের হাতে তুলে দেন, সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আয়োজক অভিজিৎ দীপকে সবাইকে শুক্রবারই বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাতে যানবাহন চলাচলের সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন বিমানবন্দরে নেমে তিনি সরাসরি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যাবেন আন্দোলনের অনুমতি আদায় করতে। সমর্থকদের সেখানেই জমায়েতের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। শনিবার সকালেই তার দিল্লি পৌঁছানোর কথা।
তবে আন্দোলনের আগে আন্দোলন কত গুরুতর হতে চলেছে তা নিয়ে কোনো আন্দাজ করতে পারছে না দিল্লি পুলিশ। তার আগেই দিল্লি পুলিশ ও দিল্লির সরকার যাতে এই আন্দোলন আটকে দেয়, তা নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা করেছিল ভারতের একটি সংগঠন। দিল্লি হাইকোর্ট শুক্রবার আন্দোলন শুরু হওয়ার আগে সেই মামলাই শুনতে চাইলেন না।




