যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক, পরে বিবৃতি

সংগৃহীত ছবি
নয়াদিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘অবৈধ ও জোরপূর্বক সীমান্ত পারাপার’সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি। বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া তিন দিনের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে বিএসএফ। তবে বৈঠক শেষে দুই বাহিনী একত্রে কোনো সংবাদ সম্মেলন করেনি।
ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সমন্বয় সম্মেলন ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়।
বিএসএফের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আলোচনার সময় উভয়পক্ষ মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, স্বর্ণ ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্য পাচারসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ কার্যকরভাবে প্রতিরোধের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। পাশাপাশি অবৈধ সীমান্ত পারাপার ও মানবপাচার নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দুই প্রতিনিধি দল সীমান্তে প্রাণহানি, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ, অনিচ্ছাকৃত ও জোরপূর্বক পারাপার, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, আস্থা বৃদ্ধিমূলক পদক্ষেপ এবং সীমান্তে উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করেছে।’
অতীতের মতো এবার মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি। এর বদলে শুধু একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে বিএসএফ, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
গত এক মাসে বেশ কয়েকটি ঘটনায় কাগজপত্রবিহীন ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করার চেষ্টা করা হয়। পরে বিজিবি তাদের আটকে দেয়। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসাম সীমান্তেও এমন ঘটনা ঘটেছে। এসব ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিএসএফ ও বিজিবি সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এসব কাগজপত্রবিহীন ব্যক্তিকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ এবং তাদের জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে বিএসএফের দাবি, তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং তাদের কাছে বাংলাদেশি পরিচয়ের নথি ছিল।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার।
বিএসএফের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই সম্মেলন সৌহার্দ্যপূর্ণ, ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন। বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় এই ব্যবস্থাটি সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।’
এতে আরও বলা হয়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে উভয়পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে সমন্বিত টহল জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি, তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে যৌথ প্রচেষ্টা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক সীমান্তের গুরুত্ব সম্পর্কে সীমান্তবর্তী জনগণকে সচেতন করা এবং সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড ঠেকাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’
দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনী আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, বিদ্রোহী তৎপরতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের বিষয়ে তাদের অভিন্ন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। সম্মেলনের ফলাফলে উভয়পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সীমান্তের স্বার্থে সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা ও পেশাগত সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বৃহস্পতিবার যৌথ আলোচনার নথিতে সইয়ের মধ্য দিয়ে সম্মেলন ইতিবাচক পরিবেশে শেষ হয়েছে। উভয় প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করেছে, গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সমঝোতা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করবে এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।




