তৃণমূলে তুলকালাম
ক্ষমতার পর দলও গেল মমতার

বিজেপির পদ্মঝড়ে ক্ষমতার গদি উড়েছে আগেই। নিজের ১৫ বছরের সাজানো-গোছানো সংসার (নবান্ন) এখন শুভেন্দু অধিকারীর দখলে। মন না চাইলেও মেনে নিতে হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের ভূমিধস ফলও। শেষ ভরসা ছিল নিজের হাতে গড়া দল ‘তৃণমূল কংগ্রেস’।
মোদি ক্যারিশমার ‘আঞ্চলিক শক্তি ভেঙে দাও’ মন্ত্রের ‘কানপড়া’ পৌঁছে গেছে সেখানেও! সুতরাং যা হওয়ার তা-ই হলো। মাত্র এক মাসেই তছনছ তৃণমূল। গঙ্গার দুপাড়ের মতোই ভেঙে খানখান তৃণমূল! শুরুটা সোমবারই নজরে পড়েছিল মমতার। মাঝে শুধু এক দিন।
সংবিৎ ফিরে ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই সবশেষ। বুধবার চোখের সামনেই দেখলেন নিজের শেষ পরিণতি। মমতার আঁচল ছেড়ে চলে গেল ঘরের ছেলেরা। একে একে ৫৮ জন বিধায়ক। ‘দিন কয়েকের ভেতর আরও যাবে’ বলেও শোরগোল চলছে তৃণমূলের অন্দরে। একশরও বেশি কাউন্সিলর তো আগেই ছেড়েছেন মমতার হাত। ট্যাকে ছিল সবেধন ৮০ বিধায়ক। শেষমেশ তা-ও গেল! নিজের আসনে হেরে ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসেছিলেন এতদিন। এখন পদ পরামর্শকের! সভানেত্রী! আরও একটু ছেঁকে বললে ‘নিজের দলে নিজেই উপদেষ্টা’।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ফসল তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গঠন থেকে শুরু করে তিন দশকের লড়াই, বাম ফ্রন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা— সবকিছুর মধ্যেই ছিল তার নেতৃত্বের ছাপ। কিন্তু সেই দলই এবার সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে। রীতিমতো তুলকালাম কাণ্ড। বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ কার্যত মমতার হাতছাড়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসের কাছে এদিন ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে স্পিকার সেই দাবিকে স্বীকৃতি দিলে বিরোধী দলনেতার পদে বসেন ঋতব্রত। তার দাবি, পরিষদীয় দলে এখন তার শিবিরেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের তরফে আখিরুজ্জামানকে মুখ্য সচেতক এবং জাভেদ খান, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন ও সন্দীপন সাহাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।




