বাংলাদেশি পণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধে ত্রিপুরার বাজারে চাপ
- বাণিজ্য স্বাভাবিক করার দাবি ত্রিপুরার ব্যবসায়ীদের

এআই নির্মিত ছবি
বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তবাণিজ্যে বিধিনিষেধের প্রভাব পড়ছে ত্রিপুরার বাজারে। প্রতিবেশী দেশ থেকে কম খরচে যে সব পণ্য আনা সম্ভব, তার কিছু পণ্যের চলাচলে বাধা থাকায় দাম বেড়েছে বলে দাবি ত্রিপুরার ব্যবসায়ীদের। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানি স্বাভাবিক করার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছে ব্যবসায়ী মহল এবং আমদানি-রফতানিকারক সংগঠনগুলি।
আগরতলার আখাউড়া স্থলবন্দরে কর্মরত ভারতীয় স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা দেবাশিস নন্দী জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ১৭ মে বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য আনার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। তার বক্তব্য, বাংলাদেশের ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে ত্রিপুরায় ওই সব পণ্য পৌঁছনোর খরচ তুলনায় কম। তাই সীমান্তবাণিজ্যে বাধা পড়লে তার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ে।
বিধিনিষেধের প্রভাব বোঝাতে দামের উদাহরণ দিয়েছেন নন্দী। তার কথায়, আগে যে সব পণ্যের দাম ৮ থেকে ১০ রুপি ছিল, তার কিছু এখন ১৫ থেকে ২০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। যদিও কোন কোন পণ্যের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ঘটেছে, তার নির্দিষ্ট তালিকা তিনি দেননি।
নন্দীর মতে, সীমান্তবাণিজ্য শুধু বাংলাদেশের অর্থনীতিকেই সাহায্য করে না, ত্রিপুরার মানুষের চাহিদা মেটাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাই কোন পণ্য আমদানি বা রফতানি করা সম্ভব, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মধ্যে আলোচনা চলছে। পরবর্তী বৈঠকগুলিতে বিধিনিষেধের বিষয়টি তুলে ধরে পণ্য চলাচল সহজ করার চেষ্টা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ত্রিপুরার ব্যবসায়ীদের কাছে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অন্য রাজ্য থেকে পণ্য আনতে পরিবহণে বেশি খরচ হতে পারে। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সহজ হলে স্থানীয় বাজারে পণ্যের জোগান বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে।
ত্রিপুরায় ভারতীয় স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে তিনটি স্থলবন্দর রয়েছে—আগরতলা, সোনামুড়ার শ্রীমন্তপুর এবং সাব্রুম। কিন্তু সাব্রুম স্থলবন্দর চালুর অপেক্ষা এখনও শেষ হয়নি।
নন্দী জানিয়েছেন, বন্দরটি ২০২৪ সালের ১৪ অগস্ট চালু হওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশের রামগড় অংশেও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে বলে তার দাবি। তা সত্ত্বেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর নির্দিষ্ট দিন এখনও জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সাব্রুম-রামগড় পথ চালু হলে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে পৌঁছনোর সুযোগ আরও সহজ হতে পারে। তাতে শুধু ত্রিপুরা নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্য রাজ্যগুলিরও পণ্য পরিবহণে সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নন্দীর মতে, এই যোগাযোগ নেপাল ও ভুটানের জন্যও আঞ্চলিক বাণিজ্যের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
আগরতলায় ব্যবসায়ী এবং আমদানি-রফতানিকারক সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠকে সীমান্তবাণিজ্যের বাধা ও পণ্যের জোগান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন কোন পণ্যের আমদানি-রফতানি সহজ করা যায়, তা নিয়ে আরও আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন নন্দী।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের কাছে উত্তর-পূর্ব ভারত একটি সম্ভাবনাময় বাজার। অন্যদিকে, ত্রিপুরার ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কাছে কাছের দেশ থেকে পণ্য আনার সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং সাব্রুম স্থলবন্দর চালুর দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
তবে কবে বিধিনিষেধ শিথিল হবে, কোন পণ্য আমদানির সুযোগ মিলবে কিংবা সাব্রুম স্থলবন্দর কবে চালু হবে—এ নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট ঘোষণা নেই। আপাতত দুই দেশের আলোচনার দিকেই তাকিয়ে ব্যবসায়ী মহল।



