অপারেশন সিঁদুরের পর প্রথম
এসসিও বৈঠকে পাকিস্তানের মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ ভারতের

ভারত পাকিস্তান ওয়াগাহ সীমান্তে সামরিক মহড়া চলার দৃশ্য
অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের আবহে এই প্রথম পাকিস্তানের কোনও মন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাল নয়াদিল্লি। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)-র উদ্যোগে আগামী ২০ ও ২১ নভেম্বর দিল্লিতে আয়োজিত বিভিন্ন দেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনায় যোগ দিতে পাকিস্তানের জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এই খবর প্রকাশ করেছে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’। যদিও এসসিও-র সদস্য দেশগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো আয়োজক দেশের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায়। তারপর দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই ঘটনার পর পাকিস্তানের কোনো মন্ত্রীকে ভারতের আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনা এই প্রথম। এর আগে, ২০২৩ সালের মে মাসে পাকিস্তানের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি গোয়ায় এসসিও-র বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন। অর্থাৎ, পাকিস্তানের কোনও মন্ত্রীর শেষ ভারত সফর হয়েছিল ওই সময়েই।
দীর্ঘদিন ধরেই ভারত- পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কার্যত অচল। ২০১৬ সালে পাঠানকোট ও উরি হামলার পর সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। ২০১৯ সালে দুই দেশই নিজেদের রাষ্ট্রদূত ফিরিয়ে নেওয়ায় কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও নেমে যায়। তবে এসসিও-র মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশকে একসঙ্গে অংশ নিতে হয়। সেই কারণেই দিল্লির সামনে একদিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কঠোর অবস্থান বজায় রাখা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
দিল্লির একটি ঐতিহাসিক স্থানে এসসিও বৈঠক
আয়োজনের প্রস্তাব প্রথম দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চিনের তিয়ানজিনে এসসিও-র রাষ্ট্রপ্রধানদের শীর্ষ বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাব রাখেন। পরে ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে এসসিও-র ২৫তম বৈঠকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, এই আয়োজন করবে ভারত।
এই বৈঠকের লক্ষ্য ইউরেশিয়ার সদস্য দেশগুলির মধ্যে জনসম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ জোরদার করা। পাশাপাশি প্রাচীন সভ্যতাগুলির অভিন্ন ঐতিহ্য, শিল্প, সাহিত্য ও পরম্পরাকে তুলে ধরাও এর উদ্দেশ্য।
এসসিও-র সদস্য দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, চিন, রাশিয়া, ইরান, কাজাখস্তান, কিরঘিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও বেলারুশ। আগামী বছর এসসিও-র শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক পাকিস্তান। ফলে বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও দুই দেশের যোগাযোগের গুরুত্ব রয়েছে।



