মোদি-আদানির স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নিয়ে তথ্যচিত্র সরানোর নির্দেশ আদালতের

নরেন্দ্র মোদি ও গৌতম আদানি— রয়টার্স
হটমেইলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সাবির ভাটিয়ার প্রকাশিত একটি অনলাইন তথ্যচিত্র সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের একটি আদালত। তথ্যচিত্রটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ধনকুবের গৌতম আদানির বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টে আদানির প্রধান প্রতিষ্ঠান আদানি এন্টারপ্রাইজেস অভিযোগ করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লাখ লাখবার দেখা তথ্যচিত্রটিতে অসংখ্য মিথ্যা তথ্য রয়েছে। এর জেরে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন বিনিয়োগকারীও প্রশ্ন তুলেছেন বলে আদালতকে জানায় তারা। তবে আদালতের আদেশে ওই বিনিয়োগকারীদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
সোমবার গভীর রাতে জারি করা আদেশে ইউটিউব, এক্স ও মেটাকে তথ্যচিত্রটি সরানোর নির্দেশ দিয়ে আদালত বলেছে, ‘এটি কোনো সংবাদ প্রতিবেদন বা কার্যক্রমের বিবরণ নয়। এটি একটি নাটকীয় আখ্যান।’
মোদির বিরোধীরা প্রায়ই তার সঙ্গে আদানির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে এই ধনকুবের ব্যবসায়ী বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন। তবে ভারত সরকার ও আদানি গোষ্ঠী বারবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আদানি এন্টারপ্রাইজেস আদালতে বলেছে, সরকারি নীতি বা ব্যবসায়িক খাতে সম্পদের কেন্দ্রীভবন নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা বন্ধ করার কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। তবে ভাটিয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে আদালতের আদেশে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভাটিয়া তার এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, মামলায় তার কাছে ৫০ কোটি রুপি বা ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সত্য আমার পক্ষে।’
ভাটিয়া আরও লেখেন, ‘আমার বিশ্বাস, এই তথ্যচিত্র আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডকে বিচলিত করেছে এবং ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে সংবেদনশীল জায়গায় আঘাত করেছে।’
একসময়ের জনপ্রিয় ইমেইল সেবা হটমেইলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ভাটিয়া। ১৯৯৭ সালে তিনি মাইক্রোসফটের কাছে সেবাটি বিক্রি করেন।
২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর অন্তর্বর্তী আদেশে আদালত ৩৬ মিনিটের ‘দ্য ফ্রেন্ডশিপ ফাইলস’ তথ্যচিত্রটির একাধিক পোস্ট সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ইউটিউব, এক্স ও মেটার মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রামকে এসব পোস্ট সরাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভাটিয়াকে ভিডিওটি প্রচার করা থেকেও বিরত রেখেছেন আদালত।
মামলাটির পরবর্তী শুনানি জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে।
আদালতে মামলা হওয়ার আগে মোদির ক্ষমতাসীন জোটের নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুলিশ ১৯ অক্টোবর ভাটিয়াকে তথ্যচিত্রটি সরানোর নোটিস দেয়। নোটিষে বলা হয়, এতে ‘গুরুতর ও অসমর্থিত অভিযোগ’ তোলা হয়েছে।
মোদির রাজনৈতিক বিরোধীরা বারবার তথ্যচিত্রটি শেয়ার করেছেন। তাদের দাবি, এতে মোদি ও আদানির বিরুদ্ধে তাদের উত্থাপিত আগের অভিযোগগুলোরই প্রতিফলন ঘটেছে।
আর্কাইভের ফুটেজ ব্যবহার করে তৈরি তথ্যচিত্রটিতে মোদি ও আদানির সম্পর্কের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। দুজনেরই আদি নিবাস পশ্চিম ভারতের গুজরাট রাজ্য।
২০১৯ সালে ছয়টি বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য আদানি গোষ্ঠীর দরপত্রে জয়ী হওয়া নিয়েও তথ্যচিত্রটিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম পরিবর্তনের ফলে আদানি গোষ্ঠী সুবিধা পেয়েছিল। বিরোধী দল কংগ্রেসও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছে।
তবে আদানি গোষ্ঠী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ভারত সরকারের বক্তব্য, সব নিয়মকানুন মেনেই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে এবং কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়নি।
এর আগে মোদির সমালোচক ও আঞ্চলিক বিরোধী নেতা রাজ ঠাকরে তার এক্স অ্যাকাউন্টে তথ্যচিত্রটি শেয়ার করেন। সেখানে এটি ৪৮ লাখবার দেখা হয়েছিল। তবে মুম্বাইয়ের পুলিশ কমিশনারের অনুরোধে তিনি ভিডিওটি সরিয়ে নেন বলে জানান।
মোদির আরেক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও আইনপ্রণেতা মহুয়া মৈত্র ১১ অক্টোবর তথ্যচিত্রটি পোস্ট করেন। সোমবার রাতে এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, ভিডিওটি তখনো তার অ্যাকাউন্টে ছিল।
তিনি লেখেন, ‘আমি এটি ১১ অক্টোবর পোস্ট করেছি। এটি এখনো আমার টাইমলাইনে রয়েছে। তাই দেখে নিন।’
সূত্র : দ্য ইনডিপেনডেন্ট



