নির্বাচনে হেরেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের প্রধান হলেন হাঙ্গেরির অরবান

হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। ছবি: সংগৃহীত
হাঙ্গেরির রাজনীতিতে এখন চলছে চরম নাটকীয়তা। গত নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হেরেছে দেশটির শাসক দল ‘ফিদেজ’। এরপরও আবারও দলের প্রধান হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান।
এই নির্বাচনে অরবানের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। ফলে বিনা বাধায় আরও এক বছরের জন্য দলের নেতৃত্ব পেলেন তিনি। যদিও ৬২ বছর বয়সী এই নেতা এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তবে পুনর্নির্বাচনের পর অরবান একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে দলের এই হারের সম্পূর্ণ দায় তাঁর নিজের।
দেশটির বার্তা সংস্থা এমটিআই বলেছেন, শনিবার দলের একটি বিশেষ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মোট ৭৩৭ জন প্রতিনিধি ভোট দেন। তাদের মধ্যে ৭২৯ জনই অরবানের পক্ষে ছিলেন।
ভোটের আগে অরবান একটি আবেগঘন বক্তৃতা দেন। তিনি তাঁর চেনা ভঙ্গিতে বলেছেন, “আমি হাল ছাড়ি না। আমি কখনও, কখনও, কখনও, কখনও, কখনও হাল ছাড়ি না।” তিনি আরও দাবি করেছেন, বিগত ১৬ বছর ধরে ফিদেজ সরকারি দল হিসেবে অসাধারণ কাজ করেছে। তবে সামনে যদি আবার ক্ষমতায় ফিরতে হয়, তাহলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। আপাতত দলটিকে একটি শক্তিশালী এবং কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
ভিক্টর অরবান ২০১০ সালে ক্ষমতায় আসেন। এরপর থেকে হাঙ্গেরির রাজনীতিতে তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। তিনি রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু গত এপ্রিলের নির্বাচনে তাঁর দল হেরে যায়। এই পরাজয় অরবানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। পরিস্থিতি এখন বেশ জটিল। তাঁর দীর্ঘদিনের কিছু ঘনিষ্ঠ সমর্থকও তাঁকে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
জনপ্রিয়তার দিক থেকেও বড় ধস নেমেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, নির্বাচনের পর ফিদেজের জনসমর্থন ৩৯ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ১৭ শতাংশে নেমে এসেছে।
গত ১২ এপ্রিলের নির্বাচনে হাঙ্গেরির রাজনীতিতে বড় রদবদল হয়। সেখানে জয়ী হয় মধ্য-ডানপন্থী ও পশ্চিমাপন্থী দল 'তিসা পার্টি'। দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন পিটার মাজার। তাঁর দল পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এর ফলে তারা বড় একটি সুবিধা পাচ্ছে। অরবানের আমলে তৈরি করা বিতর্কিত সাংবিধানিক নিয়মগুলো বদলে ফেলার একক ক্ষমতা এখন তাদের হাতে।
ক্ষমতায় বসেই নতুন প্রধানমন্ত্রী বড় কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছেন। অরবানের নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তাদের সরাতে তারা সংবিধান সংশোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সাথে ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার পথে অরবান 'ভেটো' দিয়েছিলেন। নতুন সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে রাজি হয়েছে।
অরবান যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে তাঁর তীব্র দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ ছিল। এই কারণে ইইউ হাঙ্গেরির জন্য বরাদ্দ ১৮ বিলিয়ন ইউরোর তহবিল আটকে দিয়েছিল।
তবে পিটার মাজারের নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তারা দেশে আবার গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যকার বরফ গলতে শুরু করেছে। ইইউ ইতিমধ্যেই আটকে থাকা ফান্ডের ১৬.৪ বিলিয়ন ইউরো ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ডলারে এর পরিমাণ প্রায় ১৯ বিলিয়ন।
আপাতত হাঙ্গেরির আমজনতার পুরো সমর্থন মাজারের 'তিসা পার্টি'র দিকে। জরিপ অনুযায়ী, তাদের সমর্থন বেড়ে এখন ৫৫ শতাংশে ঠেকেছে। এমন এক কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে নিজের দল টিকিয়ে রাখাই এখন ভিক্টর অরবানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
সূত্র: আল জাজিরা


