ইরান যুদ্ধের সমালোচক ত্রিতা পারসির বিরুদ্ধে তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী সহ-সভাপতি ত্রিতা পারসি।ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচক বিশ্লেষক ত্রিতা পারসির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ তথ্য জানানো হয়েছে সংবাদমাধ্যম ফ্রি প্রেসের এক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা এবং পর্যালোচিত বিভিন্ন নথির ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে পারসিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের সম্ভাবনাও। ত্রিতা পারসি ইরান ও সুইডেনের দ্বৈত নাগরিক।
পারসি পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সহ-সভাপতি।
এ ছাড়া তিনি ন্যাশনাল ইরানিয়ান-আমেরিকান কাউন্সিলের (এনআইএসি) সহ-প্রতিষ্ঠাতা। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রকাশ্য সমালোচক হিসেবে পরিচিত তিনি।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ফ্রি প্রেসকে বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিপক্ষদের সমর্থন করে। পাশাপাশি তাদের স্বার্থ এগিয়ে নেয় এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেবে।
ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘যারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করতে চায়, আমরা তাদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইরানি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও পদক্ষেপ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
গত এপ্রিলে আটক করা হয় হামিদেহ সোলেইমানি আফশার এবং তার মেয়ে সারিনাকে। একইসঙ্গে আবাসিক অনুমতিপত্র বাতিল করা হয় তাদের। তাদের ভুলভাবে সাবেক ইরানি সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির আত্মীয় বলে চিহ্নিত করেছিলেন ডানপন্থী প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব লরা লুমার। যদিও তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও বর্তমানে টেক্সাসে আটক রয়েছেন তারা।
এ ছাড়া এপ্রিলে সাবেক ইরানি মন্ত্রী মাসুমেহ এবতেকারের কয়েকজন আত্মীয়ের গ্রিন কার্ডও বাতিল করে তাদের আটক করে যুক্তরাষ্ট্র।
ত্রিতা পারসি নিজেও ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সমালোচক। রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে ইরান ছেড়ে সুইডেনে আশ্রয় নিয়েছিল তার পরিবার। ইরান-সংঘাতের বিরোধিতা করার কারণে ইরানের রাজতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠী এবং ট্রাম্পপন্থী বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখেও পড়েছেন তিনি।
এ ছাড়া গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং লেবাননে হামলার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনেরও কঠোর সমালোচনা করে আসছেন পারসি।
গত মে মাসে মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পারসি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে চাইলে আঞ্চলিক সংঘাতে ইসরায়েলের হামলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তার ভাষ্য, ‘ট্রাম্প যদি তা করতে না পারেন বা না চান, তাহলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।’
পারসি আরও বলেছেন, ‘এমন একটি যুদ্ধবিরতি, যেখানে ইসরায়েল যেকোনো সময় আবার হামলা শুরু করতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে অক্ষম। এটি স্থিতিশীলতার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তির উপযোগিতা অনেকটাই কমে যায়।’
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল মিডল ইস্ট আই। তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো সংস্থা এ বিষয়ে সাড়া দেয়নি।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই





