গাড়ির ধাক্কায় দুই পা-ই হারালেন অস্ট্রেলিয়ান নারী এমপি

স্বামীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার স্বতন্ত্র এমপি হেলেন হেইন্স। ফাইল ছবি/ সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার স্বতন্ত্র এমপি হেলেন হেইন্সের দুই পা কেটে ফেলতে হয়েছে। গত সোমবার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ওয়াঙ্গারাট্টায় নিজের নির্বাচনী কার্যালয়ের কাছে গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। তবে তিনি এখন শারীরিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন।
হেইন্সের স্বামী ফিল হেইন্স বুধবার মেলবোর্নের আলফ্রেড হাসপাতালে তার শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হেলেন বেঁচে আছেন এবং স্থিতিশীল আছেন— এটাই এখন পরিবারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ৬৫ বছর বয়সী হেলেনকে তিনি দৃঢ়চেতা ও লড়াকু মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ওইদিন হামলার পর হেইন্সকে হেলিকপ্টারে করে মেলবোর্নের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার হয়েছে।
হেইন্সকে হেলিকপ্টারে করে মেলবোর্নের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার হয়েছে। শুরুতেই তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। চিকিৎসকরা তার অন্য পা বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন।
এর আগে, সাদা রঙের টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার দিয়ে হেইন্সকে দুবার ধাক্কা দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ‘চালক ইউটার্ন নিয়ে গাড়ি পার্কিং এলাকায় ঢোকেন এবং হেলেনকে একটি গাড়ির সঙ্গে চাপা দেন। এরপর গাড়িটি পেছনে নিয়ে আবারও একই কাজ করেন।’
স্থানীয় নাপিত রিকি জেফারিস জানিয়েছেন, প্রচণ্ড শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। চালকের কাছ থেকে একটি ছুরি কেড়ে নিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীকে থামাতে সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন এগিয়ে আসেন।
ভিক্টোরিয়া পুলিশ গাড়ির চালক ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি কাছের ট্যারাউইঙ্গি শহরের বাসিন্দা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সন্দেহভাজকের নাম ব্রেন্ডান নুজেন্ট বলে জানিয়েছে। তবে পুলিশ তার নাম নিশ্চিত করেনি। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বন উজাড়ের বিরোধিতাসহ বিভিন্ন পরিবেশগত ইস্যুতে প্রচার চালিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, একজন পথচারী তাকে ঘটনাস্থলে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। একটি ছুরিও জব্দ করা হয়েছে।
হেইন্স ও সন্দেহভাজক আগে থেকে একে অপরকে চিনতেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি। হামলার উদ্দেশ্যও পরিষ্কার নয়।
ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজসহ বিভিন্ন দলের নেতারা ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছেন। রাজনীতিবিদদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বুধবার অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ ও নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা এমপিদের দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
গভর্নর জেনারেল স্যাম মোস্টিন হেইন্সের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এ হামলা অস্ট্রেলিয়ার গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে থামা ও ভাবার মুহূর্ত। হেইন্সের সাবেক আসনের এমপি ক্যাথি ম্যাকগোয়ানও সহিংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজনীতিতে অংশ নেওয়া বিশেষ করে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান




