নরওয়ের রাজা হ্যারাল্ড মারা গেছেন

নরওয়ের রাজা হ্যারাল্ড পঞ্চম। ফাইল ছবি / রয়টার্স
নরওয়ের রাজা হ্যারাল্ড পঞ্চম ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন। স্থানীয় শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে অসলো ন্যাশনাল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে রাজপ্রাসাদ।
এর আগে বিরল রক্তজনিত রোগের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন রাজা হ্যারাল্ড। তার মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসবেন তার ছেলে ক্রাউন প্রিন্স হাকন অষ্টম।
হ্যারাল্ডের মৃত্যুর আগের দিন রাজপরিবারের সদস্যরা তাকে দেখতে হাসপাতালে যান। এ সময় অসলোতে রাজপ্রাসাদের বাইরে ফুল রেখে শ্রদ্ধা জানান সাধারণ মানুষ।
১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি বাবা রাজা ওলাভ পঞ্চমের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন হ্যারাল্ড। ১৪ শতকের পর নরওয়েতে জন্ম নেওয়া প্রথম নরওয়েজীয় রাজা ছিলেন তিনি।
৩৫ বছরের শাসনামলে তিনি রাজপরিবারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনেন। অর্থ ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে রাজতন্ত্রকে আরও উন্মুক্ত এবং সাধারণ মানুষের কাছাকাছি করে তোলার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল।
১৯৬৮ সালে ব্যবসায়ীর মেয়ে সোনিয়া হ্যারাল্ডসেনকে বিয়ে করেন হ্যারাল্ড। বিয়ের আগে বাবার অনুমতির জন্য তাকে নয় বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। কারণ রাজা ওলাভ চেয়েছিলেন, তার ছেলে কোনো ইউরোপীয় রাজকন্যাকে বিয়ে করুন।
২০১১ সালের জুলাইয়ে অসলো ও উতইয়া দ্বীপে সন্ত্রাসী হামলা ছিল তার শাসনামলের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। নব্য-নাৎসি অ্যান্ডার্স ব্রেইভিক অসলোতে গাড়িবোমা হামলায় আটজনকে হত্যা করেন। পরে উতইয়া দ্বীপে একটি যুব শিবিরে গুলি চালিয়ে আরও ৬৯ জনকে হত্যা করেন।
এরপর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে হ্যারাল্ড নরওয়েজীয়দের একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। ভয়কে জয় করার কথাও বলেন তিনি।
২০১৬ সালে নরওয়ের ধর্মীয়, জাতিগত ও যৌন বৈচিত্র্যের পক্ষে কথা বলেন হ্যারাল্ড।
তিনি ছিলেন অভিজ্ঞ নাবিকও। তিনবার অলিম্পিক গেমসে নরওয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০২২ সালে প্রতিযোগিতামূলক নৌক্রীড়া থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে তিনি নিয়মিত জনসমক্ষে উপস্থিতি কমিয়ে দেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী রানি সোনিয়া, মেয়ে প্রিন্সেস মার্থা লুইস, ছেলে হাকন এবং ছয় নাতি-নাতনি রেখে গেছেন।
সূত্র : বিবিসি








