প্রথম ফেডারেশন হিসেবে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি নরওয়ের

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার ব্যর্থ উদ্যোগের পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)। বৃহস্পতিবার রাতে ফেডারেশনের বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইনফান্তিনোকে সরাসরি পদত্যাগের আহ্বান জানানো প্রথম ফুটবল ফেডারেশন নরওয়ে।
ফিফার কাজের ধরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সোচ্চার নরওয়ে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্কের পর ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর তাদের আস্থা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন এনএফএফ সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস।
দ্য গার্ডিয়ানকে ক্লাভেনেস বলেন, ‘ইনফান্তিনোর ওপর এখন আর কোনো আস্থা নেই আমাদের। আমরা ধারাবাহিকভাবে উদ্বিগ্ন ছিলাম। প্রতি বছর এবং বছরের বিভিন্ন সময়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এখন সেই আস্থা পুরোপুরি শেষ। ইনফান্তিনোর জন্য আর ফেরার কোনো পথ নেই।’
ক্লাভেনেস মনে করেন ফুটবলকে এগিয়ে নিতে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ করা জরুরি, ‘বিশ্বজুড়ে আমরা এখন অত্যন্ত বিভক্ত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে আছি। তাই বৈশ্বিক ফুটবল সম্প্রদায় যেন সামনে এগিয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে সে জন্য আমরা তাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে বলব।’
আগামী সপ্তাহেই ইনফান্তিনোর পদত্যাগ চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর কথা নরওয়ের। ২০২৩ সালে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনেও সমর্থন দেয়নি দেশটি। গত এক সপ্তাহে ইউরোপের আরও কয়েকটি ফেডারেশনও ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।
নরওয়ে একই সঙ্গে ২০১৬ সালে ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতি হওয়ার পর গৃহীত সংস্কারগুলোর সম্পূর্ণ পর্যালোচনার দাবিও জানিয়েছে। দুর্নীতির সংকট থেকে ফিফাকে বের করে আনতেই ওই সংস্কারগুলো করা হয়েছিল। ক্লাভেনেসের মতে, কোন সংস্কার বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনগুলো হয়নি এবং ভবিষ্যতে ফিফাকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কী পদক্ষেপ প্রয়োজন সবই এই পর্যালোচনায় উঠে আসা উচিত।
এদিকে ফিফার ইথিক্স কমিটিতেও নতুন করে অভিযোগ দাখিল করবে নরওয়ে। তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে এই অভিযোগ করা হবে—ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্প, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার ‘শান্তি পুরস্কার’ দেওয়া এবং বিশ্বকাপে ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের ঘটনায় নেওয়া সিদ্ধান্ত।
নরওয়ে চায় ইউরোপের আরও কয়েকটি বড় ফেডারেশন তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অভিযোগটি দাখিল করুক। এতে ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছে তারা।




