ক্যাম্পাসে সাবধানে!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী
স্নেহাশীষ নিও। তোমরা হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছ। মুক্ত বাতাসের ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাতার থেকে তোমাদের স্বাগত জানানোর কথা ছিল। কিন্তু ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয় নিয়ে আমি নিজেই এখন ভয়ে আছি। কারণটাও বলছি শোনো। জাহাঙ্গীরনগর থেকে আমরা যখন ’২৪-এর আন্দোলনে রাজপথে, তখন আমাদের পাশে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে এক ভাই বেশ স্লোগান দিতেন। ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হয়েছিলেন। নাম তার আব্দুর রশিদ জিতু। জাকসুতে স্বতন্ত্র থেকে ভিপিও হলেন। কিন্তু কয়েক মাস পর আবারও সাইনবোর্ড বদলে যোগ দিলেন বিএনপিতে। ভাইয়ের রাজনৈতিক ডিগবাজির টাইমিং দেখে সার্কাসের পেশাদার পারফর্মাররাও সালাম ঠুকবে।
মজার কাহিনি আরও আছে শোনো। ক্যাম্পাসে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি পাইয়ে দেওয়ার নামে চালকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে! আর একজন চা দোকানি নাকি তার কাছে ২৬ হাজার টাকা পাবেন! এসব দায় যদি শেষমেশ আমাদের মতো সত্যিকারের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে এসে পড়ে? রাস্তায় বের হলে মানুষ যদি ভাবে– ‘ওহ, সাধারণ শিক্ষার্থী? অর্থাৎ বাকি খেয়ে টাকা না দেওয়া পাবলিক!’ তবে আমাদের মানসম্মানের কী হবে বলো তো?
সব জায়গায় এখন ভয়। তাই তোমাদের আগেভাগেই সতর্ক করে রাখলাম
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিভোজে শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই কয়েকজন ছাত্রনেতাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন তিনি। পরে বক্তব্য বদলে জানালেন, ‘মন্তব্যটি ছিল তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিকদের উদ্দেশে।’ অর্থাৎ সাংবাদিকদের গালি দেওয়াটা যেন স্বাভাবিক! কিছুদিন আগে রাবিতে ওনার মতোই দুজন সাবেক সাধারণ শিক্ষার্থী (যারা এখন বড় নেতা) সংবাদ প্রকাশের দায়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। ডাকসু, চাকসু ও জকসুতেও একই পরিস্থিতি। আধিপত্যের রাজনীতি চলছে। শিক্ষকরাই এখন ভয়ে থাকেন। সব জায়গায় এখন ভয়।
তাই তোমাদের আগেভাগেই সতর্ক করে রাখলাম। ক্যাম্পাসে পা দিয়েই যদি শোনো কেউ ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ বলে চেঁচাচ্ছে, একটু দূরত্ব বজায় রেখো! কারণ কে জানে, কাল হয়তো ‘গুপ্তাবস্থা’ থেকে বেরিয়ে কোনো দলের ঝাণ্ডা ধরে বাকি খাওয়া আর চাঁদাবাজির নতুন অধ্যায় শুরু করবে। আর দায় এসে পড়বে তোমাদের মতো ‘সত্যিকারের সাধারণ শিক্ষার্থী’র ওপর!
ইতি
শঙ্কিত এক ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ বড় ভাই




