পাবনা
গোপন ঘর থেকে চোরাই গরু উদ্ধার, যুবদল কর্মী গ্রেপ্তার

চোরাই গরুসহ যুবদল কর্মী শরিফুল ইসলাম প্রধান গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত
পাবনা সদর উপজেলার কোমরপুর এলাকায় একটি বাড়ির মাটির নিচের গোপন স্থান থেকে দুটি চোরাই গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে শরিফুল ইসলাম প্রধান নামে এক ব্যক্তিকে। স্থানীয়ভাবে তিনি যুবদল কর্মী হিসেবে পরিচিত।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে কোমরপুর সীমান্ত বাজার এলাকায় শরিফুলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গরু দুটি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার শরিফুল ইসলামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আড়ুয়া বাধা এলাকায়। তবে তিনি পাবনা সদর এলাকার ভোটার এবং জেলা যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বিভিন্ন সময়ে জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মনির আহমেদসহ একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে তার ছবি এবং জেলা যুবদলের পরিচয়ে তার ছবি সংবলিত ব্যানার দেখা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে সদর উপজেলার বাসিন্দা মো. হাসানের দুটি গরু চুরি হয়। বিষয়টি মৌখিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে শুরু হয় তদন্ত। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, চুরি হওয়া গরু দুটি রাখা হয়েছে শরিফুলের বাড়িতে। পরে শুক্রবার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে তৈরি বিশেষ স্থান থেকে গরু দুটি উদ্ধার করা হয়।
দলীয় পদের নাম ব্যবহার ও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ছবির বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মনির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস আহমেদ (হিমেল রানা) বলেন, ‘অপরাধী যে-ই হোক, আমরা তার সঠিক বিচার চাই। দল কখনো অপরাধী তৈরি করে না বা প্রশ্রয় দেয় না। ব্যক্তিগত অপরাধের দায় কোনোভাবেই সংগঠনের ওপর বর্তায় না। অনেক সময় বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অনেকেই ছবি তুলে পরে তা ব্যবহার করে অপরাধ করে। তবে আসল পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার পর কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার শরিফুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও একাধিক ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওসি আরও জানান, উদ্ধার করা গরুর মালিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তীতে নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।





