ফারাজের নিশানায় মা-শিশুরাও
ক্ষমতায় এলেই ৯০ হাজার আশ্রয়প্রার্থীকে ফেরত পাঠাবে রিফর্ম ইউকে

ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ব্রিটেনে আশ্রয় চেয়েছিলেন অনেকে। কারও কোলে শিশু, কেউ যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা মা। কিন্তু নাইজেল ফারাজের দল ক্ষমতায় এলে তাদের ক্ষেত্রেও বন্ধ হতে পারে আশ্রয়ের দরজা। শুধু নতুন আবেদন নয়, বিচারাধীন প্রায় ৯০ হাজার মানুষের দেশছাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে। এমনই পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ব্রিটেনের কট্টর ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে পাঁচ বছরের জন্য আশ্রয়ব্যবস্থা স্থগিতের ঘোষণা দেন ফারাজ। তার দল ক্ষমতায় এলেই নতুন আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করবে। বিচারাধীন আশ্রয় ও মানবিক সুরক্ষার আপিল নিষ্পত্তি না করেই সংশ্লিষ্টদের নিজ দেশ অথবা নিরাপদ তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠাতে চায় তারা।
শিশুদের ছাড় দেওয়া হবে কি না, সাংবাদিকদের প্রশ্নে ফারাজ বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনি কিংবা আফগান নারী ও শিশুদের প্রবেশের সুযোগ দিলে পরে স্বামী ও সঙ্গীদের আসার পথ খুলে যায়।’ তার যুক্তি, এতে পরিবারের পুনর্মিলনের নামে আরও বহু তরুণ পুরুষ ব্রিটেনে আসবেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পুনর্বাসন কর্মসূচিতে আসা ব্যক্তিদের এমন পারিবারিক পুনর্মিলনের অধিকার নেই।
রিফর্মের পরিকল্পনায় ২০২৪ সাল থেকে আশ্রয় পাওয়া ব্যক্তিদের অবস্থানও পুনর্বিবেচনা করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো দেশকে নিরাপদ ঘোষণা করলে সেখানকার নাগরিকদের থাকার অনুমতি বাতিল হতে পারে। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর চালু বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া অন্যান্য বৈধ শরণার্থী পুনর্বাসনপথও বন্ধ করতে চায় দলটি।
দলের ১৭ পৃষ্ঠার পরিকল্পনায় অভিবাসন নজরদারি ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা, বাসস্থান ও ব্যবসার অনুমতি যাচাইয়ের সময় অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করা হবে। বিদ্যুৎ-পানির ব্যবহার, আকাশ থেকে তোলা ছবি এবং প্রতিবেশীদের অভিযোগ বিশ্লেষণ করেও মানুষ শনাক্তের কথা বলা হয়েছে।
দলটির অভিবাসনবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফের দাবি, শেষ পর্যন্ত দশ লাখের বেশি মানুষকে ফেরত পাঠাতে চান তারা। তবে কাউকে নির্যাতন বা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। ফেরত নিতে অস্বীকার করা দেশের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক কিংবা আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ফারাজ।
রিফর্ম ইউকে অবশ্য বলেছে, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন থামানো এবং সীমান্তের ওপর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠার জন্যই এত কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
স্কাই নিউজের সাংবাদিক আলেক্সান্দ্রা রজার্স অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের কাছে জানতে চেয়েছেন, এমন স্থগিতাদেশ আদৌ কার্যকর করা সম্ভব কি না। আইনবিশেষজ্ঞদের মতে, মানবাধিকার আইন পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক চুক্তির বাধ্যবাধকতা এবং অন্য দেশের সম্মতি ছাড়া প্রত্যাবাসনের মতো প্রশ্নে বড় বাধা রয়েছে।
শরণার্থী পরিষদের নীতিবিশ্লেষক জন ফিটনবি বলেছেন, এ পরিকল্পনা কার্যকরযোগ্য নয়; আশ্রয়প্রার্থীরা আরও বেশি আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হতে পারেন। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিও এর সমালোচনা করেছে।
ব্রিটেনে এখনও এটি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব। তবু বিতর্কের কেন্দ্রে রয়ে গেছে একটি প্রশ্ন। সীমান্ত কঠোর করার নামে যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালানো শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?



