ইংল্যান্ডে আসছে ‘ট্যুরিস্ট ট্যাক্স’
- হোটেল ও থাকার খরচের ওপর বাড়তি কর
- আয় যাবে স্থানীয় পরিষেবা ও পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নে

ব্রিটেনের হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাত এমনিতেই উচ্চ কর ও বাড়তি খরচের চাপে রয়েছে।
বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? ইংল্যান্ডে গেলে ভবিষ্যতে হোটেলের বিলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে নতুন একটি খরচ। স্থানীয় পর্যায়ে ‘ট্যুরিস্ট ট্যাক্স’ বা রাতযাপনের ওপর কর চালুর ক্ষমতা পেতে চলেছেন ইংল্যান্ডের আঞ্চলিক মেয়ররা। তবে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মেয়ররা জানিয়েছেন, তারা এই কর ৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখতে চান।
বৃহস্পতিবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের স্থানীয় সরকার সংস্কারের অংশ হিসেবে এই ‘ওভারনাইট ভিজিটর লেভি’ চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হোটেল, এয়ারবিএনবি এবং অন্যান্য থাকার জায়গায় রাত কাটানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই ব্যবস্থা আনা হচ্ছে। ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য, পর্যটন থেকে পাওয়া অর্থ স্থানীয় পরিবহন, জনপরিসর, পরিষেবা ও আকর্ষণীয় স্থানগুলোর উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে।
লেবার দলের একাধিক মেয়র জানিয়েছেন, তারা করের হার বাড়িয়ে পর্যটকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ দিতে চান না। লন্ডনের মেয়র সাদিক খানসহ কয়েকজন আঞ্চলিক নেতা ৫ শতাংশের মধ্যে সীমা রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছে ব্রিটেনের আতিথেয়তা শিল্প। সংগঠন ইউকেহসপিটালিটি-এর প্রধান অ্যালেন সিম্পসন সতর্ক করে বলেছেন, একটি খাতে কর বসানোর ক্ষমতা দিলে মেয়ররা “সেই সুযোগের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন”। তাদের দাবি, এই কর পর্যটন শিল্পে কর্মসংস্থান ও ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শিল্প সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ব্রিটেনের হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাত এমনিতেই উচ্চ কর ও বাড়তি খরচের চাপে রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন কর চালু হলে সাধারণ পরিবারগুলোর ছুটির খরচ বাড়বে।
বাংলাদেশি ও এশীয় পর্যটকদের ওপর এর প্রভাব কেমন হতে পারে? লন্ডন, ম্যানচেস্টার, লিভারপুল বা অন্য জনপ্রিয় শহরে যারা হোটেলে থাকেন, তাদের ভ্রমণ বাজেটে সামান্য বাড়তি চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে দীর্ঘ সময় থাকার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ চোখে পড়তে পারে। তবে ৫ শতাংশ সীমার মধ্যে থাকলে সাধারণ পর্যটকদের জন্য তা বড় ধরনের বাধা হবে কি না, তা নির্ভর করবে থাকার খরচ ও মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর।
সমর্থকদের মতে, পর্যটকরাই সেই অর্থের একটি অংশ দেবেন, যা আবার শহরের উন্নয়নেই ব্যয় হবে। সমালোচকদের প্রশ্ন, পর্যটন বাড়ানোর বদলে এই কর কি উল্টো মানুষকে নিরুৎসাহিত করবে?
স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় ইতিমধ্যেই ৫ শতাংশ পর্যটন কর চালু হয়েছে। ইংল্যান্ডও এখন সেই পথেই হাঁটতে চলেছে।



