ফ্রান্সে ফের তীব্র তাপপ্রবাহ ২২ বিভাগে কমলা সতর্কতা

সংগৃহীত ছবি
তীব্র গরমে আবারও নাজেহাল ফ্রান্স। দেশটির মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। ১০ আগষ্ট সোমবার ২২টি বিভাগে তাপপ্রবাহের কারণে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং রোন উপত্যকার কিছু এলাকায় তা ৩৯ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে।
রাজধানী প্যারিসসহ দেশের বড় অংশেও গরমের প্রভাব পড়েছে। প্যারিসে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি, লিয়নে ৩৪ ডিগ্রি এবং স্ত্রাসবুর্গে ৩৩ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকতে পারে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধিই নয়, কয়েকটি এলাকায় বিকেলের দিকে বজ্রঝড়ের সম্ভাবনাও রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয়ভাবে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া দেখা দিতে পারে। ফলে কোথাও প্রচণ্ড গরম, আবার কোথাও আকস্মিক ঝড় ও বৃষ্টির কারণে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে।
চলমান তাপপ্রবাহের সঙ্গে বনভূমিতে আগুন লাগার ঝুঁকিও বাড়ছে। দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়া এবং উচ্চ তাপমাত্রার কারণে বিশেষ করে দক্ষিণ ফ্রান্সে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘস্থায়ী তাপ ও খরার কারণে একাধিক বড় দাবানল দেখা গেছে।
ফ্রান্সে এ বছর গরমের তীব্রতা আগেই নজর কেড়েছে। জুনের শেষ দিকে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে যায়। ওই সময় ফ্রান্সের বড় একটি অংশে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি হয়েছিল এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হয়।
শুধু ফ্রান্স নয়, পুরো পশ্চিম ইউরোপই চলতি গ্রীষ্মে অস্বাভাবিক গরমের মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস জলবায়ু পরিবর্তন পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মিলে পশ্চিম ইউরোপে রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ দুই মাসের সময়কাল হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী তাপ ও খরার কারণে এ সময় দাবানলের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘন ঘন তাপপ্রবাহের প্রবণতা বাড়ছে। একই সঙ্গে গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া দাবানলের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। ফলে ইউরোপে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ এখন শুধু আবহাওয়ার বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, পানি সরবরাহ ও বনাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্যও পরিস্থিতিটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন। নির্মাণ, ডেলিভারি, কৃষি, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য খোলা জায়গায় কাজ করা শ্রমিকদের অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত বিরতি এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। শিশু, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনেও ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চ তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতি অঞ্চলভেদে পরিবর্তিত হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতা ও আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করাই নিরাপদ।




