জেলেনস্কিকে রাজসম্মান দেবে ব্রিটেন

যুদ্ধ থামেনি। শান্তির পথও অনিশ্চিত। তবু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির জন্য খুলতে চলেছে ব্রিটিশ রাজদরবারের দরজা। রাশিয়ার আগ্রাসনের পাঁচ বছর পূর্তি সামনে রেখে তাকে রাষ্ট্রীয় সফরে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের এক ব্যতিক্রমী বার্তা দিতে চায় লন্ডন।
গতকাল শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে জেলেনস্কিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানাবেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। তবে সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি এখনো।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। আগামী ফেব্রুয়ারিতে সেই যুদ্ধের পাঁচ বছর পূর্ণ হবে। এমন একসময়ে রাজকীয় সফরের পরিকল্পনা সামনে এলো, যখন ইউক্রেন আরও একটি কঠিন শীতের মুখোমুখি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজা চার্লস পরিকল্পনাটির পক্ষে রয়েছেন। তবে যুদ্ধকালীন রাষ্ট্রনেতার পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রচলিত জাঁকজমক কিছুটা কমানো হতে পারে। গুরুত্ব পাবে সফরের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তাৎপর্য। ২০২৭ সালের নভেম্বরে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠেয় জি২০ সম্মেলনের সঙ্গে সফরটি মিলিয়ে আয়োজনের সম্ভাবনাও কম। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, তাতে রাষ্ট্রীয় সফরের স্বতন্ত্র গুরুত্ব ম্লান হতে পারে।
জেলেনস্কি আবারও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে পারেন। এর আগে ২০২৩ সালেও সেখানে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। তবে এমন আয়োজনের বাস্তব প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সাবেক উপদেষ্টা বেন জুডাহ মনে করেন, রাষ্ট্রীয় সফরে ব্রিটেনের যুদ্ধ-সংক্রান্ত কৌশলগত সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা কম। পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর ও বাকিংহাম প্রাসাদ মন্তব্য করেনি। এদিকে গত ২৮ অক্টোবর ইউক্রেনের জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার কোটি পাউন্ড সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটেন। এর মধ্য দিয়ে কিয়েভের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি সমর্থনের অঙ্গীকার আরও জোরালো করেছে দেশটি।
অক্টোবরেই বাকিংহাম প্রাসাদে রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন জেলেনস্কি। তখন ব্রিটেনের অবিচল সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রাজদরবারের সম্মান কি যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা বদলাতে পারবে? নাকি পাঁচ বছরের রক্তক্ষয়ের পর এই আয়োজন হয়ে থাকবে এক বন্ধুর পাশে থাকার প্রতীকী অঙ্গীকার?



