সমুদ্রের অন্ধকারে ‘অদৃশ্য অস্ত্র’, রাশিয়ার পরিকল্পনায় নড়েচড়ে বসল ন্যাটো
- যুদ্ধ শুধু মাটিতে নয়, সমুদ্রের গভীরেও
- সুইডেন-নরওয়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আন্ডারসি কেবল লক্ষ্য করে মহড়ার অভিযোগ, রুশ সাবমেরিনের তৎপরতায় বাড়ছে উদ্বেগ

আর্কটিকের বরফঢাকা জলের নিচে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেবল ধ্বংসের জন্য রাশিয়ার একটি গোপন পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে ন্যাটো মিত্ররা
যুদ্ধের নতুন ময়দান কি এবার সমুদ্রের গভীরে? আর্কটিকের বরফঢাকা জলের নিচে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেবল ধ্বংসের জন্য রাশিয়ার একটি গোপন পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে ন্যাটো মিত্ররা, এমনই দাবি উঠেছে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। অভিযোগ, এমন এক প্রযুক্তি পরীক্ষা করছিল মস্কো, যা ব্যবহার করে কোনও চিহ্ন না রেখেই সমুদ্রের তলদেশের কেবল অচল করা সম্ভব।
বৃহস্পতিবার দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরওয়ের স্ভালবার্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার গভীর সমুদ্র যুদ্ধ ইউনিট জিইউজিআই-এর তৎপরতা শনাক্ত করা হয়। ব্রিটেন, নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানে রুশ জাহাজগুলোর গতিবিধি নজরে রাখা হয় এবং তাদের মহড়া শেষ করার আগেই সরে যেতে বাধ্য করা হয়।
পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, রুশ বাহিনী গভীর সমুদ্রের বিশেষ যান ব্যবহার করে এমন একটি প্রযুক্তির পরীক্ষা চালাচ্ছিল, যা সংঘাতের সময় গুরুত্বপূর্ণ ফাইবার-অপটিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত করতে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে রাশিয়া কোনও কেবল ধ্বংস করেনি এবং ঘটনাটি ছিল প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি অনুশীলন, এমনটাই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই কেবলগুলো শুধু ইন্টারনেট সংযোগের জন্য নয়; এগুলোর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য, স্যাটেলাইট ডেটা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ প্রবাহিত হয়। স্ভালবার্ডকে নরওয়ের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা কেবলগুলো তাই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
নরওয়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রী টোরে স্যান্ডভিক বলেছেন, “আমরা রাশিয়াকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি, গোপনে কাজ করার সুযোগ নেই।” তিনি আরও বলেছেন, “গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করার যেকোনও প্রচেষ্টা শনাক্ত করা হবে এবং তার পরিণতি হবে।”
ব্রিটেন ও নরওয়ে এর আগে জানিয়েছিল, রাশিয়ার গভীর সমুদ্র গবেষণা অধিদপ্তর জিইউজিআই আর্কটিক ও উত্তর ইউরোপীয় জলসীমায় গোপন কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করেছে। তবে এবারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং নতুন প্রযুক্তির বিষয়টি আগে প্রকাশ্যে আসেনি।
ন্যাটো ইতিমধ্যেই সমুদ্রের নিচের অবকাঠামো রক্ষায় নজরদারি বাড়িয়েছে। বাল্টিক সাগরসহ ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে কেবল, পাইপলাইন ও জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা এখন জোটের অন্যতম অগ্রাধিকার।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরাসরি যুদ্ধ নয়, বরং তথাকথিত ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’-এর অংশ যেখানে সাইবার হামলা, গুপ্তচরবৃত্তি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আঘাতের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করা হয়। রাশিয়া অবশ্য এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে নিয়মিতভাবে অস্বীকার করে এসেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া ও পশ্চিমের সম্পর্ক যখন সবচেয়ে উত্তপ্ত পর্যায়ে, তখন আর্কটিকের এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, পরবর্তী সংঘাতের লক্ষ্য কি শুধু স্থলভাগ, নাকি সমুদ্রের অদৃশ্য পথও?



