ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাজ্যে পেট্রোলের দাম সর্বোচ্চ

ছবি: রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাজ্যে পেট্রোলের গড় দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির মোটরচালক সংগঠন আরএসি জানিয়েছে, প্রতি লিটার পেট্রোলের গড় দাম এখন প্রায় ১৬০ পেন্স।
জ্বালানির দাম সাধারণত পাইকারি তেলের দামের সঙ্গে ওঠানামা করে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধে একটি কাঠামোগত চুক্তিতে সম্মত হলে তেলের দাম দ্রুত কমে যায়। তবে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর তা আবার বাড়তে শুরু করেছে।
পেট্রোল ও ডিজেলের অন্যতম প্রধান উপাদান অপরিশোধিত তেল। ফলে পাইকারি বাজারে তেলের দাম বাড়লে গাড়িতে জ্বালানি ভরার খরচও বাড়ে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লে পেট্রোলের খুচরা দাম গড়ে প্রতি লিটারে প্রায় ৭ পেন্স বাড়ে।
যুদ্ধ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার। সংঘাত শুরু হলে তা ১২০ ডলারেরও বেশি উঠে যায়। জুলাইয়ের শুরুতে কাঠামোগত চুক্তির পর দাম আবার প্রায় ৭০ ডলারে নেমে আসে। শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে তা আবার ১০০ ডলারের ওপরে ওঠে। বর্তমানে দাম প্রায় ৯০ ডলার।
আরএসি জানিয়েছে, পেট্রোলের দাম এখন ১৫৯ দশমিক ৯৭ পেন্স এবং ডিজেলের দাম ১৭৮ দশমিক ৯৭ পেন্স প্রতি লিটার। তবে ডিজেলের দাম এখনো ১৫ এপ্রিলের সর্বোচ্চ ১৯১ দশমিক ৫৪ পেন্সের নিচে।
আরএসির নীতিবিষয়ক প্রধান সাইমন উইলিয়ামস বলেছেন, ‘বড় ধরনের তেলের দাম কমে না গেলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ডিজেলের দাম ১৮৫ পেন্সে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।’
তবে বর্তমান দাম ২০২২ সালের গ্রীষ্মের তুলনায় কম। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর ওই সময় পেট্রোলের দাম ১৯১ দশমিক ৫ পেন্স এবং ডিজেলের দাম ১৯৯ পেন্সে উঠেছিল।
পাইকারি বাজারের দামের পরিবর্তন খুচরা বাজারে পৌঁছাতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগে। সংকটের সুযোগ নিয়ে দাম বাড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে জ্বালানি বিক্রেতারা। সরকারি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাও জানিয়েছে, সংকটের সুযোগ নিতে বিক্রেতারা সক্রিয়ভাবে মূল্য নির্ধারণের কৌশল বদলেছে—এমন প্রমাণ তারা পায়নি।
যুক্তরাজ্য সরকারের ‘ফুয়েল ফাইন্ডার’ ব্যবস্থার মাধ্যমে চালকেরা বিভিন্ন পেট্রোল স্টেশনের জ্বালানির দাম তুলনা করতে পারেন। এএ-র নীতিবিষয়ক প্রধান লুক বসডেট বলেছেন, দাম দ্রুত কমে যাওয়ার বিষয়টি তাদের বিস্মিত করেছে এবং এর পেছনে এই ব্যবস্থার ভূমিকা থাকতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তেলের বৈশ্বিক সরবরাহে বড় ধাক্কা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সাধারণত এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরতে সময় লাগতে পারে। ফলে যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও কয়েক মাস থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
যুক্তরাজ্য তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এর বেশিরভাগ আসে যুক্তরাষ্ট্র ও নরওয়ে থেকে। যদিও উত্তর সাগর থেকেও যুক্তরাজ্য কিছু তেল পায়, তার বেশিরভাগই অন্য দেশে পরিশোধনের জন্য রপ্তানি করা হয়।
সূত্র : বিবিসি






