ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত অন্তত ১৫

কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত ভবন
ইউক্রেনে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। গতকাল বুধবার রাতে দেশটির বিভিন্ন শহরে চালানো হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
ইউক্রেন সরকারের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১০০ জনের মতো।
রাজধানী কিয়েভে নিহত হয়েছে চারজন, এরমধ্যে ১২ বছরের এক শিশুও রয়েছে। তিনজন নিহত হয়েছে দিনিপ্রোতে। বাকি আট জনের মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী ওদেসায়।
অন্যদিকে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলে নিহত হয়েছে দুই শিশু। অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ বলেছেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত শিশুদের বয়স ছিল পাঁচ ও ১৪।
খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উৎসব অর্থোডক্স ইস্টার উদযাপন শেষে এই হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটল।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো হামলার কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা কিয়েভের কেন্দ্রীয় পোডিলস্কি জেলায় ধসে পড়া একটি ১৬-তলা আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করেছে এক মা ও শিশুকে।
দিনিপ্রোর আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্ডার গানঝা টেলিগ্রামে লিখেছেন, দিনিপ্রোতে এক হামলায় তিনজন নিহত এবং আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ।
বৃহস্পতিবার সকালে ওদেসায় হামলা চালায় রাশিয়া। শহরের সামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা সের্গি লিসাক টেলিগ্রামে লিখেছেন, রাশিয়ার হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত আটজন।
এছাড়া খারকিভ, মাইকোলাইভ, খেরসনেও চালানো হয় হামলা। এরমধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের দুই শহর মাইকোলাইভ ও খেরসনে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ সংযোগ।
‘রাশিয়া যুদ্ধই চাইছে এবং এর জবাবও ঠিক তেমনই হওয়া উচিত।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গতকাল দিন ও রাতে ৬০০-এর বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে সেনাবাহিনী। আমাদের এয়ারফোর্সের তথ্যমতে ৭০০-এর মতো ড্রোন ছুড়েছিল রাশিয়া। পাশাপাশি ছোড়া হয়েছে ১৯টি ব্যালিস্টিক মিসাইল।
‘রাশিয়া যুদ্ধই চাইছে এবং এর জবাবও ঠিক তেমনই হওয়া উচিত।’
জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেছেন, আমাদের জীবন রক্ষা করতে হবে সর্বশক্তি দিয়ে। পাশাপাশি চাপ সৃষ্টি করতে হবে শান্তির জন্যও।
পঞ্চম বছরে পা দেওয়া এ যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বৈঠক হয়েছে একাধিক দফা। কিন্তু মেলেনি কোনো সুফল। এরমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মনোযোগ সরিয়ে নেন মধ্যপ্রাচ্যে। এতে ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা কার্যত যায় থেমে।
সূত্র: বিবিসি

