পদত্যাগ করতে প্রস্তুত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী

ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবারই পদত্যাগ করতে পারেন। তার বিদায়ের জন্য নির্ধারিত একটি সময়সূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য অবজারভার।
তবে সরকারের একটি সূত্র দাবি করেছে, স্টারমার এখনই পদ ছাড়ছেন না। বরং সরকার পরিচালনার কাজেই তিনি মনোনিবেশ করছেন।
দ্য অবজারভারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে তার স্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচনার পর তারা এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছেন।
লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা আশা করছেন, সোমবারের মধ্যেই হয়তো তার ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে স্পষ্ট বিবৃতি আসবে।
অবশ্য সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, স্টারমার এখনো তার কাজে মনোযোগ ধরে রেখেছেন। এর আগে তিনি এই বিষয়ে যা বলেছিলেন, সেই অবস্থানেই অটল আছেন।
গত শুক্রবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন, তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ তিনি মোকাবিলা করবেন। দলের ভেতরে কোনো ধরনের উপদলীয় কোন্দলে না জড়াতে পার্টির প্রতি আহ্বান জানান।
২০২৪ সালের নির্বাচনে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে মধ্য বামপন্থী লেবার পার্টি বিরাট জয় পেয়েছিল। কিন্তু একের পর এক কেলেঙ্কারি এবং বিভিন্ন নীতি থেকে ইউটার্ন নেওয়ার কারণে তিনি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা হারাতে থাকেন।
ভোটারদের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে, জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি স্টারমার দিয়েছিলেন, তা পূরণে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, লেবার পার্টির ১০০ জনেরও বেশি আইনপ্রণেতা ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ চেয়েছেন। অনেকে আবার তিনি কবে পদ ছাড়বেন, সেই সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।
হাউস অব কমন্সে (ব্রিটিশ সংসদ) এই দলের মোট যতজন প্রতিনিধি আছেন, এই সংখ্যাটি তার প্রায় চার ভাগের এক ভাগ।
অবজারভারের প্রতিবেদনে কোনো সূত্রের নাম উল্লেখ না করে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা, দাতা এবং ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে কথা বলার পর স্টারমার নিজেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, তার পক্ষে আর এই পদে থাকা সম্ভব নয়।
সূত্র : রয়টার্স




