‘ভিন্নমত দমনে ফাঁসি নয়’: ইরানকে পশ্চিমাদের কড়া বার্তা

ব্রিটেনসহ ৩২টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে তেহরানকে অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার বন্ধ এবং নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে ইরানের উপর চাপ বাড়াল আন্তর্জাতিক মহল। ব্রিটেনসহ ৩২টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে তেহরানকে অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার বন্ধ এবং নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভিন্নমত স্তব্ধ করা, মানুষকে ভয় দেখানো কিংবা মানবাধিকার প্রয়োগের কারণে শাস্তি দিতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার কোনোভাবেই ন্যায্য হতে পারে না। ইরানের মানুষকে ভয়ভীতি ছাড়াই মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার দিতে হবে। বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতিবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধিও সমর্থন জানিয়েছেন।
যৌথ বিবৃতিতে সই করা দেশগুলো হলো আলবেনিয়া, অস্ট্রিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মন্টেনেগ্রো, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, উত্তর মেসিডোনিয়া, নরওয়ে, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য।
দেশগুলোর আহ্বান, ইরান যেন মানুষের পরিবর্তনের দাবি শোনে এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।
সাম্প্রতিক মৃত্যুদণ্ড নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ মার্চের পর জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগে ইরানে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ২৭ জনের মামলা চলতি বছরের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত। একই ধরনের অভিযোগে আরও শতাধিক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
গত ২৮ জুলাই জানুয়ারির বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত একটি মামলায় আবুলফজল সেপাহি-বদজানি ও আমিরহোসেইন সাফারি-হোসেইনাবাদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে ইরান। একই মামলায় অন্তত ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তেহরান বলেছে, দেশের বিচারপ্রক্রিয়া নিজস্ব আইনের অধীনেই পরিচালিত হয় এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান আইনসঙ্গত।
জাতিসংঘ ইতিমধ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করে ধীরে ধীরে সর্বোচ্চ শাস্তি বিলোপের পথে এগোতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যেই ৩২ দেশের এই যৌথ বিবৃতি তেহরানের উপর নতুন কূটনৈতিক চাপ তৈরি করল।






