পঞ্চম দফায় দাবদাহের মুখে ব্রিটেন

তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি ছাড়ালে আগস্ট মাসে ব্রিটেনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডও ভেঙে যেতে পারে।
চলতি গ্রীষ্মে এ নিয়ে পঞ্চম দফায় বড় দাবদাহের মুখে পড়েছে ব্রিটেন। রেকর্ড শুষ্ক আবহাওয়া, একের পর এক দাবানল এবং অসহনীয় গরম মিলিয়ে দেশটির এবারের গ্রীষ্ম ক্রমেই ব্যতিক্রমী হয়ে উঠছে।
আজ হতে পারে চলতি বছরের ব্রিটেনের সবচেয়ে উষ্ণ দিন। ইংল্যান্ডে তীব্র দাবদাহের মধ্যে বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিরল ‘অ্যাম্বার এক্সট্রিম হিট’ সতর্কতার আওতা আরও বাড়িয়েছে সংস্থাটি।
সর্বশেষ হালনাগাদে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের গ্রেটার ম্যানচেস্টার ও চেশায়ার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমের গ্লস্টারশায়ার ও উইল্টশায়ার এবং পশ্চিমের শ্রপশায়ার ও হেরেফোর্ডশায়ারের কিছু এলাকাও সতর্কতার আওতায় এসেছে।
৩৮ ডিগ্রিতে উঠতে পারে তাপমাত্রা
মেট অফিস জানিয়েছে, বুধবার রাতের গরম কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা দ্রুত বাড়বে। সবচেয়ে বেশি গরম পড়তে পারে মিডল্যান্ডস ও পশ্চিম ইংল্যান্ডে। কোথাও কোথাও পারদ ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে।
সতর্কতার আওতায় রয়েছে ইস্ট মিডল্যান্ডস, ইস্ট অব ইংল্যান্ড, লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা। এর পাশাপাশি ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের কয়েকটি এলাকা এবং সাউথ ইয়র্কশায়ার ও নর্থ লিঙ্কনশায়ারও রয়েছে তালিকায়। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এই সতর্কতা কার্যকর থাকবে।
মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রির ওপরে উঠলে বৃহস্পতিবারই হতে পারে চলতি বছরের ব্রিটেনের সবচেয়ে উষ্ণ দিন। এর আগে ২৬ জুন পূর্ব ইংল্যান্ডে সর্বোচ্চ ৩৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল।
তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি ছাড়ালে আগস্ট মাসে ব্রিটেনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডও ভেঙে যেতে পারে। তবে আবহাওয়াবিদেরা আপাতত এমন সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন।
শুধু অস্বস্তি নয়, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
তীব্র গরমের প্রভাব মানুষের অস্বস্তিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রেললাইন, সড়ক, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য তাপ-সংবেদনশীল অবকাঠামোয় সমস্যা দেখা দিতে পারে। সড়ক, রেল ও বিমান চলাচলেও বিলম্বের আশঙ্কা রয়েছে।
গরমে পানিশূন্যতা, হিট এক্সহস্টশনসহ বিভিন্ন তাপজনিত অসুস্থতা বাড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রবীণ এবং হৃদ্রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা।
আবহাওয়া সতর্কতার পাশাপাশি গোটা ইংল্যান্ডে ‘অ্যাম্বার হিট-হেলথ অ্যালার্ট’ জারি করেছে ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ)। আগামী মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত এই সতর্কতা বহাল থাকবে।
বেশি করে পানি পান করা, দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং ঘর যতটা সম্ভব ঠান্ডা রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। প্রবীণ ও অসুস্থ স্বজন এবং প্রতিবেশীদের নিয়মিত খোঁজ নিতেও বলা হয়েছে।
খরা-দাবানলে বাড়ছে উদ্বেগ
তীব্র গরমের পাশাপাশি খরা ও দাবানলও বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। ইংল্যান্ডের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকা এবং পুরো ওয়েলস এখন খরার কবলে। চলতি বছর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এরই মধ্যে ১,০১৭টি দাবানল নথিভুক্ত হয়েছে। সংখ্যাটি গত বছরের পুরো বছরের রেকর্ডের সমান।
দক্ষিণ ইংল্যান্ডের নিউ ফরেস্টেও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা।
দাবানলের ঝুঁকি এতটাই বেড়েছে যে একবার ব্যবহারযোগ্য বারবিকিউ বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে দোকানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। গ্রীষ্মের মাসগুলোয় ভবিষ্যতে এ ধরনের বারবিকিউ নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার। জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার ‘কোবরা’ বৈঠকও করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
হাসপাতালেও গরমের চাপ
স্বাস্থ্যব্যবস্থাতেও তীব্র গরমের প্রভাব পড়ছে। রয়্যাল কলেজ অব নার্সিং জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরমে কাজ করতে গিয়ে হাসপাতালের কর্মীদের অসুস্থ হয়ে পড়া, মাথা ঘোরা এমনকি হিট এক্সহস্টশনে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
এর আগে ইউকেএইচএসএর হিসাবে, মে ও জুনের দাবদাহের সঙ্গে শুধু ইংল্যান্ডেই ২,৮৭৭টি অতিরিক্ত মৃত্যুর সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
শুক্রবারও গরম থাকবে, শনিবার মিলবে স্বস্তি
মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবারও ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের অনেক এলাকায় গরম থাকবে। তবে পশ্চিম দিক থেকে তুলনামূলক ঠান্ডা বাতাস ঢুকতে শুরু করলে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমবে। দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে বিচ্ছিন্ন বজ্রঝড়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।
শনিবার থেকে পরিস্থিতি আরও কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে।






