সার্বিয়ায় ভোটে ছাত্রদের কাছে ধরাশায়ী ভুচিচ

সার্বিয়ার দীর্ঘদিনের নেতা আলেকসান্দার ভুচিচ। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
সার্বিয়ার আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের কাছে পরাজয় স্বীকার করেছেন দেশটির দীর্ঘদিনের নেতা আলেকসান্দার ভুচিচ। প্রাথমিক হিসাবে ২৫০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে ছাত্রদের ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’।
রবিবার ভোট গ্রহণ শেষে ভুচিচ জানিয়েছেন, নমুনা ভোটের হিসাবে স্টুডেন্ট লিস্ট ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে। বিপরীতে তার নির্বাচনী জোট পেতে পারে ১০৫টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১২৬টি আসন।
চূড়ান্ত ফল তখনও প্রকাশ হয়নি। তবে ভুচিচ বলেছেন, ‘এটা স্পষ্ট যে আমরা এই নির্বাচনে হেরে গেছি।’
তার এ ঘোষণার পর স্টুডেন্ট লিস্টের নির্বাচনী কার্যালয়ে উল্লাস শুরু হয়। অনেকে আনন্দে কেঁদে ফেলেন। দলটির পার্লামেন্ট প্রার্থী রাদোমির সাইচিচ বলেছেন, প্রাথমিক ফলে প্রায় সব ভোটকেন্দ্রেই ছাত্ররা বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘ছাত্ররা জিতেছে। তাদের সঙ্গে এই আশাও জয়ী হয়েছে যে সার্বিয়া ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও মর্যাদার দেশ হতে পারে।’
ভুচিচের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) ২০১২ সাল থেকে সার্বিয়ার ক্ষমতায় রয়েছে। তবে প্রায় দুই বছর ধরে চলা ছাত্র আন্দোলন এবার দলটির জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর ওই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির দাবিতে প্রথমে রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থীরা। পরে আন্দোলন দুর্নীতি ও সরকারের কথিত দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বড় আন্দোলনে রূপ নেয়। ভুচিচ ও তার দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এ আন্দোলন থেকেই গড়ে ওঠে ‘স্টুডেন্ট লিস্ট–স্টুডেন্টস উইন’। চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে নির্বাচনে প্রার্থী করে তারা। তাদের অনেকেরই আগে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল না। দুর্নীতি বন্ধ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালায় জোটটি। প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি বিরোধী দলও নিজেদের প্রার্থী না দিয়ে ছাত্রদের সমর্থন করে।
নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ৬৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ১৯৯২ সালে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর এটিই দেশটিতে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
তবে ভোট গ্রহণের সময় ভয়ভীতি দেখানো ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা সিআরটিএ জানিয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষণ করা ৫০০ কেন্দ্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে ভোটার অথবা নির্বাচনকর্মীদের ওপর চাপ দেওয়ার ঘটনা পাওয়া গেছে। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা না করার অভিযোগও করেছে সংস্থাটি।
আরেক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিইএসআইডি বিকাল ৫টা পর্যন্ত সম্ভাব্য অনিয়মের প্রায় ২৬০টি অভিযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে ব্যালটের ছবি তোলা, দলবদ্ধভাবে ভোট দেওয়া ও পরিচয় যাচাইয়ে সমস্যার অভিযোগ রয়েছে।
ভুচিচ পরাজয় স্বীকারের পর রাজধানী বেলগ্রেডসহ বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমে উদ্যাপন শুরু করেন হাজারো মানুষ। আতশবাজি ফোটানো হয়। গাড়ির হর্ন বাজিয়ে বিজয় উদ্যাপন করেন ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকরা।
ভুচিচ গত সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্টের পদ ছেড়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রচারণায় তিনি পেনশন ও সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন।
স্টুডেন্ট লিস্টকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন। আইনের শাসন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে সার্বিয়ার সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র : আল জাজিরা






