কার হাতে এআইয়ের লাগাম
- নিজেই সাইবার হামলা চালাচ্ছে এআই, অথচ আইন এখনও পেছনে!
- ‘গুরুতর সন্ধিক্ষণে’ নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
- রাজা চার্লসও দিলেন সতর্কবার্তা, এআই নিয়ন্ত্রণে ব্রিটেনের গতি নিয়ে প্রশ্ন

সংগৃহীত ছবি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর শুধু মানুষের প্রশ্নের উত্তর লিখছে না, নিজেই সাইবার হামলা চালাতে পারছে, নিরাপত্তার বেড়া এড়িয়ে ঢুকছে বাইরের ব্যবস্থায়। প্রযুক্তি যখন এত দ্রুত বদলাচ্ছে, তখন ব্রিটিশ সরকারের হাতে কি তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার যথেষ্ট আইন, ক্ষমতা এবং সময় আছে? লন্ডনে এখন উদ্বেগের কেন্দ্রে সেই প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞ, এমপি এবং প্রযুক্তি খাতের একাংশের আশঙ্কা, এআই নিরাপত্তার এই 'গুরুতর সন্ধিক্ষণে' ব্রিটেন প্রয়োজনীয় গতিতে এগোচ্ছে না।
কিয়ার স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বের শেষ দিকে তার মন্ত্রীরা নতুন এআই নিরাপত্তা আইন তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলিকে নতুন মডেল বাজারে ছাড়ার আগে ব্রিটিশ নিরাপত্তা পরীক্ষার মুখোমুখি করা যায় কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পরিকল্পনাটি থমকে যায়। পরে গত ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী হওয়া অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি দপ্তর বিলুপ্ত করলে উদ্বেগ আরও বাড়ে। এআইমন্ত্রী কানিষ্ক নারায়ণকে ক্যাবিনেট অফিসে নেওয়া হলেও তার হাতে আগের মতো স্বতন্ত্র দফতরের কাঠামো নেই।
প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী ম্যাট ক্লিফোর্ড সতর্ক করেছেন, অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা দুই ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির জন্য এটি 'একটি গুরুতর মুহূর্ত'। তার মতে, প্রশাসনিক পুনর্গঠনে সময় ও শক্তি নষ্ট হলে মূল সমস্যার মোকাবিলা পিছিয়ে যেতে পারে। কম্পিউটার বিজ্ঞানী ডেম ওয়েন্ডি হলও বলেছেন, আগের দপ্তরে কিছু অতিরিক্ত কাঠামো থাকলেও এখনকার বিভক্ত ব্যবস্থা আরও ক্ষতিকর হয়েছে।
উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা। জুলাইয়ে ওপেনএআই জানায়, তাদের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা পরীক্ষার সময় বাস্তব প্রতিষ্ঠান হাগিং ফেস-এর কম্পিউটার ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইবার হামলা চালিয়েছিল। অন্যদিকে অ্যানথ্রপিক-এর গবেষক জ্যাকব কক্সন চাকরি ছেড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। পরে অ্যানথ্রপিকের নতুন ক্লড মাইথোস মডেলটি ব্রিটেনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে আগাম পরীক্ষার সুযোগ না দিয়েই প্রকাশ করা হয়েছে বলে খবর সামনে আসে।
উদ্বেগে সুর মিলিয়েছেন রাজা তৃতীয় চার্লসও। গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্কটল্যান্ডে এআই শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছেন, প্রযুক্তিকে এগিয়ে নেওয়াই শুধু দায়িত্ব নয়, সেটিকে যেন 'মানবতা, সমাজ ও প্রাকৃতিক বিশ্বের সেবায়' রাখা যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
সরকার অবশ্য নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ মানছে না। জুনে এআই-জনিত হুমকি মোকাবিলায় ১১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট এবং বায়োসিকিউরিটি ঝুঁকি মোকাবিলার ব্যবস্থাও রয়েছে।
এআইমন্ত্রী নারায়ণের ভাষায়, প্রয়োজন হলে নতুন আইন, আরও কঠোর সুরক্ষা কিংবা অতিরিক্ত ক্ষমতা 'কোনও কিছুই বিবেচনার বাইরে নয়।' কিন্তু ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপি চি অনওয়ারাহর সতর্কবার্তা আরও স্পষ্ট: সরকারের প্রথম দায়িত্ব মানুষকে নিরাপদ রাখা; সম্ভাব্য অস্তিত্বগত হুমকির সামনে দাঁড়িয়ে সরকার বলতে পারে না যে তার কিছু করার নেই।
প্রযুক্তি দৌড় থামছে না। প্রশ্ন এখন, নিয়ন্ত্রণের আইন কি সেই দৌড়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছুটতে পারবে?



