পাসপোর্টের বদলে মুখ চিনবে যন্ত্র, ব্রিটিশ বিমানবন্দরে নিয়মে বড় বদল
- পাসপোর্ট না ছুঁয়েই খুলবে বিমানবন্দরের ফটক, তবে সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক

্বিমান থেকে নামলেন, সীমান্ত ফটকের সামনে দাঁড়ালেন। পকেট কিংবা ব্যাগ থেকে পাসপোর্ট বের করে যন্ত্রে রাখারও প্রয়োজন হলো না। ক্যামেরার দিকে তাকাতেই মিলিয়ে দেখা হলো পরিচয়, খুলে গেল ফটক। ব্রিটেনের বিমানবন্দরে সীমান্ত পারাপারের বহুদিনের পরিচিত দৃশ্য এবার এমনভাবেই বদলে যেতে শুরু করেছে।
বুধবার (০৭ অক্টোবর) দ্য ইনডিপেনডেন্টে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে ধাপে ধাপে চালু হচ্ছে নতুন স্পর্শবিহীন স্বয়ংক্রিয় সীমান্তব্যবস্থা। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ইস্ট মিডল্যান্ডস বিমানবন্দরে প্রথম এ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের শুরুর মধ্যে দেশের বিমানবন্দরগুলোর সব স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত ফটক নতুন ব্যবস্থায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় যাত্রী ফটকের কাছে পৌঁছালে তাঁর মুখের একটি সরাসরি ছবি নেওয়া হবে। সেটি সরকারি পাসপোর্ট, ভ্রমণ ও অভিবাসনসংক্রান্ত যাচাইকৃত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। সব পরীক্ষা সফল হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে ফটক। ফলে আগের মতো পাসপোর্ট যন্ত্রের পাঠকের ওপর রেখে পরীক্ষা করাতে হবে না। সরকারি পরীক্ষায় এই পদ্ধতিকে প্রচলিত ব্যবস্থার তুলনায় সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ দ্রুত পাওয়া গেছে।
তবে এর অর্থ পাসপোর্ট ছাড়াই ব্রিটেনে ভ্রমণ করা যাবে, এমন নয়। যাত্রীদের বৈধ পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতেই হবে। পরিচয় নিয়ে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হলে পাসপোর্ট যন্ত্রে দিতে হতে পারে অথবা সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তার কাছে যেতে হতে পারে। বিমানযাত্রার অন্যান্য ধাপেও পাসপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে।
প্রথম পর্যায়ে নতুন সুবিধা কেবল ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য চালু হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে বর্তমানে স্বয়ংক্রিয় ফটক ব্যবহারের যোগ্য অন্যান্য দেশের নাগরিকদেরও এর আওতায় আনা হবে। ফলে সংবাদমাধ্যমের কিছু শিরোনামে “সব পাসপোর্টধারী” বলা হলেও এখনই বিশ্বের সব দেশের পাসপোর্টধারীরা এই সুবিধা পাচ্ছেন না।
বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ সরকারের বর্তমান তালিকায় বাংলাদেশের পাসপোর্ট সাধারণ স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত ফটক ব্যবহারের যোগ্য পাসপোর্টের মধ্যে নেই। বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য সাধারণভাবে আগাম ভিসাও প্রয়োজন। ফলে এই নতুন স্পর্শবিহীন সুবিধা বর্তমানে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য সরাসরি প্রযোজ্য নয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী বার্মিংহাম, ব্রিস্টল, কার্ডিফ, ইস্ট মিডল্যান্ডস, এডিনবরা, গ্যাটউইক, গ্লাসগো, হিথ্রো, লন্ডন সিটি, লুটন, ম্যানচেস্টার, নিউক্যাসল ও স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরে পর্যায়ক্রমে নতুন ব্যবস্থা চালু হবে। বিদ্যমান ফটকগুলো সরিয়ে ফেলা হচ্ছে না, বরং সেগুলোর ব্যবস্থাপনা হালনাগাদ করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক ফিল ডগলাস বলেছেন, নতুন প্রযুক্তিতে সীমান্তের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রেখেই যাত্রীদের যাত্রা আরও দ্রুত ও স্বচ্ছন্দ করা সম্ভব হবে। বিমানবন্দরগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থার প্রধান কারেন ডিও বলেছেন, দ্রুত ও কার্যকর সীমান্তব্যবস্থা এখন যাত্রীদের প্রত্যাশারই অংশ।
একসময় সীমান্ত পেরোনোর প্রতীক ছিল হাতে ধরা ছোট্ট পাসপোর্টটি। সেটি এখনও সঙ্গে থাকবে, কিন্তু ব্রিটেনের নতুন ব্যবস্থায় পরিচয়ের প্রথম চাবি হয়ে উঠছে মানুষের নিজের মুখ। প্রযুক্তি যেন সীমান্তের পুরোনো দরজায় নতুন তালা বসাচ্ছে, আর সেই তালার চাবি এবার পকেটে নয়, যাত্রীর মুখেই।



